আসামে রেকর্ড ভোটদানের হার দেখে জয়ের হুঙ্কার হিমন্তর, ব্যাপক নির্বাচনী হিংসায় আহত অন্তত ৩০

অসমে রেকর্ড ভোটদানের হার দেখে জয়ের হুঙ্কার হিমন্তর, ব্যাপক নির্বাচনী হিংসায় আহত অন্তত ৩০

আসাম, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিপূর্ণ ও উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ভোটদানের হারে ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে; সেখানে ৮৯.০৮ শতাংশ ভোটার নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। অন্যদিকে, কেরল ও আসামেও গতবারের তুলনায় ভোটদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে রাজ্যগুলির রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এখন দেশজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

আসামে ভোটদানের হার ২০২১ সালের ৮২.০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার ৮৫.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ব্যাপক ভোটদানে উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যবাসী নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ভোট দিয়েছেন। রাজ্যে টানা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় থাকা বিজেপি এবার ১০০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে হিমন্তর জয়ের হুঙ্কারের মাঝেই নির্বাচনী হিংসার কালো ছায়া দেখা দিয়েছে আসামে। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কেরলেও এবার রেকর্ড সংখ্যক মানুষ বুথমুখী হয়েছেন। ২০২১ সালে সেখানে ৭৪.০৬ শতাংশ ভোট পড়লেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭.৩৮ শতাংশে। কেরলে মূল লড়াই বাম নেতৃত্বাধীন এলডিএফ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোটের মধ্যে। অন্যদিকে, আসাম ও পুদুচেরিতে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের। আসামে হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস।

জনমত সমীক্ষাগুলি আসামে বিজেপিকে এগিয়ে রাখলেও কংগ্রেসের দাবি, রাজ্যে পরিবর্তনের চোরাস্রোত বইছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা বিজেপির বিরুদ্ধে একজোট হয়েছেন। রেকর্ড এই ভোটদানের প্রতিফলন কার পক্ষে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা কার দখলে থাকবে, তার চূড়ান্ত উত্তর মিলবে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার দিন। বর্তমানে এই তিন অঞ্চলের হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের দিকে নজর রয়েছে সারা দেশের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *