আসাম বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ শিবিরের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত নতুন জনমত সমীক্ষায়

অসম বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ শিবিরের বিপুল জয়ের ইঙ্গিত নতুন জনমত সমীক্ষায়

আসন্ন ২০২৬ সালের আসাম বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সর্বশেষ প্রকাশিত জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সুনিশ্চিত বিজয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ‘ভোট ভাইব’ (Vote Vibe) এবং ‘আইএএনএস-ম্যাট্রিজ’ (IANS-Matrize) উভয় সংস্থার সমীক্ষাই শাসক জোটের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১২৬ সদস্যের বিধানসভায় এনডিএ ৮৭ থেকে ৯৭টি আসন লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে শাসক শিবিরের দখলে থাকা ৮৬টি আসন সংখ্যা আগামী নির্বাচনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

সমীক্ষার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে, এনডিএ জোট প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেতে পারে, যা বিরোধী জোটের সম্ভাব্য ৩৬.৭ শতাংশ ভোটের তুলনায় অনেকটা বেশি। বিপরীতে, কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট ২৬ থেকে ৩৬টি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ‘আইএএনএস-ম্যাট্রিক্স’-এর পূর্বাভাসে এনডিএ-র আসন সংখ্যা ৯৬ থেকে ৯৮ পর্যন্ত পৌঁছানোর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা বিরোধীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ব্যবধান পূরণ করা বিরোধী জোটের জন্য যথেষ্ট কঠিন হতে পারে।

ব্যক্তিত্বের নিরিখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এখনও রাজ্যের মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছেন। জনমত সমীক্ষায় ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা তাঁকে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়েছেন। অন্যদিকে, আসাম প্রদেশ কংগ্রেসের পরিচিত মুখ গৌরব গগৈ ৩৭.৭ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বেকারত্ব ও দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও, জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রায় ৪২.৬ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, জুবিন গর্গের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি এবারের নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সার্বিকভাবে আসামের রাজনৈতিক আবহাওয়া এখন শাসক জোটের অনুকূলে থাকলেও, স্থানীয় ইস্যুগুলো নির্বাচনের মূল লড়াই নির্ধারণ করবে। ‘ভোট ভাইব’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিরোধীদের তুলনায় শাসক দল জনসমর্থনে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। তবে কর্মসংস্থান এবং সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সুষ্ঠু সমাধান ভোটারদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিফলিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সব মিলিয়ে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে আসামে এনডিএ-র আধিপত্য বজায় থাকার জোরালো পূর্বাভাস দিচ্ছে এই সমীক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *