অস্ত্রভান্ডারে টান না কি কৌশলবদল? ইরান-ইজরায়েল সংঘাত নিয়ে ঘনীভূত রহস্য

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ইজরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘আলমা রিসার্চ সেন্টার’-এর দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুতে ইরানের হাতে প্রায় ২৫০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজারে। মূলত আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার পাল্টাহামলার কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্যকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি জারি রাখার বার্তা দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এখন তাদের সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমায় তারা এখন প্রতিদিন গড়ে ১০টি করে হামলা চালাচ্ছে, যা আগে ছিল ১২টিরও বেশি। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার পরিবর্তে ইরান এখন ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছ সমরাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র মাঝ-আকাশে ছড়িয়ে পড়ে বিশাল এলাকা জুড়ে ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম, যা ইজরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন ও কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা কমলেও তেহরান দ্রুত উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তেহরান তাদের অস্ত্রভাণ্ডার পূর্ণ করার পাশাপাশি আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ জারি রেখেছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখনই পিছু হটতে নারাজ। বরং তারা নিজেদের সমরাস্ত্রের ঘাটতি মেটানোর পাশাপাশি যুদ্ধের মেয়াদ আরও দীর্ঘায়িত করার কৌশলী পথে হাঁটছে, যার প্রমাণ মঙ্গলবার তেল আভিভে চালানো সাম্প্রতিক হামলা।