অ্যান্ড্রয়েড ইউজাররা সাবধান! গুগলও আপনার ডেটা ছুঁতে পারবে না, আজই বদলে ফেলুন এই সেটিংস

স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু এই যন্ত্রটি ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আমরা কী খুঁজছি, কোথায় যাচ্ছি কিংবা কোন অ্যাপ ব্যবহার করছি—তার সবকিছুই রেকর্ড হচ্ছে। ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রাখতে এবং ডেটা শেয়ারিং নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস পরিবর্তন করা জরুরি।
কেন আপনার ডেটা ট্র্যাক করা হয়
গুগল এবং অন্যান্য পরিষেবাগুলো মূলত ব্যবহারকারীকে উন্নত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য ডেটা সংগ্রহ করে। তবে এই তথ্য সংগ্রহের ফলে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য ব্যবহারকারীর রুচি ও গতিবিধির ওপর নজর রাখা হয়।
প্রাইভেসির সুরক্ষায় যেসব সেটিংস বন্ধ করবেন
গোপনীয়তা বজায় রাখতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:
- ওয়েব ও অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি: এই সেটিংসটি ফোনের প্রায় প্রতিটি কাজ ট্র্যাক করে। এটি বন্ধ করতে সেটিংস থেকে গুগল সেকশনে গিয়ে ‘Data & Privacy’ অপশনে থাকা ‘Web & App Activity’ অফ করে দিন। এর ফলে গুগল আপনার সার্চ হিস্ট্রি সেভ করতে পারবে না।
- লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ রাখা: আপনি কোথায় যাচ্ছেন তার টাইমলাইন তৈরি হওয়া বন্ধ করতে সেটিংসের ‘Location Services’ থেকে ‘Location History’ অপশনটি নিষ্ক্রিয় করুন।
- অ্যাড পারসোনালাইজেশন: আপনার পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেখানো বন্ধ করতে ‘Settings > Google > Ads’ অপশনে গিয়ে ‘Ad Personalization’ অফ করে দিন। এতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ট্র্যাকিং কমবে।
- নিয়ারবাই ডিভাইস স্ক্যানিং: ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ বন্ধ থাকলেও ফোন অনেক সময় আশেপাশের ডিভাইস স্ক্যান করে। এটি বন্ধ করতে ‘Scanning’ অপশনে গিয়ে ‘Wi-Fi and Bluetooth Scanning’ অফ রাখুন।
- গুগল লোকেশন একুরেসি: জিপিএস-এর পাশাপাশি ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ ব্যবহার করে নিখুঁত অবস্থান জানার ফিচারটি বন্ধ করলে ট্র্যাকিং কিছুটা কম নির্ভুল হবে, যা প্রাইভেসির জন্য ভালো।
- ইউটিউব হিস্ট্রি লিমিট: ইউটিউবে সার্চ এবং দেখার ইতিহাস দীর্ঘকাল জমা না রাখতে ‘Auto-delete’ অপশনটি চালু করে সেটি ৩ মাসের জন্য সেট করে দিতে পারেন।
ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ও অ্যাপ নিয়ন্ত্রণ
অনেক অ্যাপ বন্ধ থাকা অবস্থাতেও ডেটা আদান-প্রদান করতে থাকে। এটি রোধ করতে ফোনের ‘Apps’ সেকশনে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাটারি অপশন থেকে ‘Restricted’ মোড সেট করা যায়। এছাড়া ব্রাউজারে ‘myaccount.google.com’ ভিজিট করে ব্যবহারকারী নিজের সম্পর্কে জমানো সব তথ্য যাচাই ও মুছে ফেলার সুযোগ পান।
তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই সেটিংসগুলো বন্ধ করলে ফোনের কিছু স্মার্ট ফিচার বা পারসোনালাইজড সার্ভিস সঠিকভাবে কাজ নাও করতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজনীয়তা বুঝে পরিবর্তনগুলো করা শ্রেয়।
একঝলকে
- ওয়েব ও অ্যাপ অ্যাক্টিভিটি বন্ধ করলে সার্চ হিস্ট্রি সেভ হওয়া বন্ধ হয়।
- লোকেশন হিস্ট্রি অফ রাখলে আপনার যাতায়াতের রেকর্ড থাকবে না।
- অ্যাড পারসোনালাইজেশন বন্ধ করলে ট্র্যাকিং-ভিত্তিক বিজ্ঞাপন কমবে।
- ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করলে তথ্য চুরি রোধ হয়।
- ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ স্ক্যানিং বন্ধ রাখলে প্রাইভেসির সুরক্ষা নিশ্চিত হয়।