অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় প্রাণ ফিরল মৃত ঘোষিত মহিলার

উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটে এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থাকল এক পরিবার। বরেলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিনীতা শুক্লাকে চিকিৎসকরা ‘মস্তিষ্ক-মৃত’ বা ব্রেন ডেড ঘোষণা করেন। শোকাহত পরিবার যখন তাঁকে মৃত ভেবে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি ফিরিয়ে আনছিল, তখনই পথে ঘটে এক নাটকীয় মোড়। বরেলির হাফিজগঞ্জ এলাকায় রাস্তার একটি বড় গর্তে অ্যাম্বুলেন্সের চাকা পড়ায় সজোরে ধাক্কা লাগে এবং হঠাৎই বিনীতার শরীরে প্রাণের স্পন্দন ও নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়।
তড়িঘড়ি তাঁকে পিলিভিটের অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। সন্দেহ করা হয়, সম্ভবত বিষধর সাপের কামড়ের প্রভাবে তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলেন। এরপর তাঁকে দ্রুত অ্যান্টি-ভেনমসহ প্রয়োজনীয় জীবনদায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। নিউরোসার্জন ডা. রাকেশ সিংয়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করেন বিনীতা। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অভাবনীয় উন্নতি ঘটে এবং তিনি ধীরে ধীরে সচেতনতা ফিরে পান।
টানা ১৩ দিন যমে-মানুষে টানাটানির পর বিনীতা শুক্লা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। লখনউয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে চলা এই দীর্ঘ চিকিৎসায় তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। পিলিভিট জেলা আদালতের এই কর্মীর ফিরে আসাকে স্থানীয় বাসিন্দারা অলৌকিক বললেও চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পাওয়াই তাঁর প্রাণ বাঁচিয়েছে। এই ঘটনাটি বর্তমানে গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।