আইটি সেক্টরে ওরাকলের নিঃশব্দ বিপ্লব ও গণছাঁটাইয়ের নেপথ্যে এআইয়ের বড় বাজি

তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্বের অন্যতম জায়ান্ট ওরাকল সম্প্রতি একটি ইমেলের মাধ্যমে ৩০,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে সকলকে চমকে দিয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, গত ত্রৈমাসিকে কো ম্পা নির নিট আয় ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতেই এই কৌশলগত পথে হেঁটেছে সংস্থাটি। গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতে ওরাকল প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে এআই ডেটা সেন্টার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। এই বিশাল তহবিলের সংস্থান এবং খরচ কমাতেই বিপুল সংখ্যক কর্মী ছাঁটাই করে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ সাশ্রয় করছে তারা।
এই গণছাঁটাইয়ের প্রভাব ভারতের ওপর অত্যন্ত প্রবল, কারণ ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ১২,০০০ জনই ভারতীয়। দীর্ঘ দুই দশক ধরে কম খরচে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের দিয়ে কাজ করানোর যে প্রথা আইটি খাতে চলে আসছিল, তা এখন এআই-এর কারণে হুমকির মুখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০ জন মানুষের কাজ একটি এআই মডেল অনেক কম খরচে করতে সক্ষম। তবে মেটা প্রধান মার্ক জুকারবার্গের মতে, এআই ৯০ শতাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয় করলেও জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে না। বরং এআই-এর ফলে খরচ কমলে নতুন স্টার্টআপ তৈরি হবে, যা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ আনবে।
পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে হলে আইটি পেশাদারদের নিজেদের কাজের ধরণ বদলাতে হবে। শুধুমাত্র নির্দেশের বাস্তবায়নকারী না হয়ে একজন ‘আর্কিটেক্ট’ হিসেবে চিন্তা করা এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজন বুঝে সমাধান দেওয়ার দক্ষতা অর্জন করা জরুরি। পাশাপাশি কোডিংয়ের সাথে মনস্তত্ত্ব বা ডিজাইনের মতো একাধিক দক্ষতার সমন্বয় বা ‘কম্পাউন্ড স্কিল’ এখন সময়ের দাবি। ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর জোর দিয়ে নিজেদের ক্রমাগত আপডেট রাখতে পারলেই এই নতুন প্রযুক্তির লড়াইয়ে জয়ী হওয়া সম্ভব। যুগের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষতা বৃদ্ধিই এখন পেশাদারদের জন্য একমাত্র রক্ষাকবচ।