আইনের চেয়েও বড় জীবন! সুখের সংসার বাঁচাতে যুবকের বিরুদ্ধে পকসো মামলা খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

ভারতের বিচারব্যবস্থায় আইনের কঠোর প্রয়োগের চেয়েও মানবিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বড় করে দেখল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নাবালিকা থাকাকালীন পালিয়ে বিয়ে করা এক যুবকের বিরুদ্ধে দায়ের করা পকসো (POCSO) আইনসহ সমস্ত ফৌজদারি মামলা খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যেখানে একটি দম্পতি সুখী দাম্পত্য অতিবাহিত করছেন এবং তাদের সন্তান রয়েছে, সেখানে পুরনো আইনি জটিলতা টেনে আনা নিরর্থক।
বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি এন ভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় বাতিল করে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত জানায়। হাইকোর্ট এর আগে মামলাটি খারিজ করতে অস্বীকার করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।
আইনের ঊর্ধ্বে জীবন ও বাস্তবতা
মামলার শুনানি চলাকালীন আদালত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে। বিচারকদের মতে, আইনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনকল্যাণ এবং সামাজিক ভারসাম্য বজায় রাখা। আদালতের প্রধান বক্তব্যগুলো হলো:
- নাবালিকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া আইনিভাবে ত্রুটিপূর্ণ হলেও, বর্তমানে ওই যুগল বিবাহিত এবং সুখে সংসার করছেন।
- বহু বছরের স্থিতিশীল একটি পরিবারকে ভেঙে দেওয়া আইনের কাজ হতে পারে না।
- এই অবস্থায় বিচার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া মানে একটি সুখী পরিবারকে মানসিক ও সামাজিকভাবে হেনস্তা করা।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি লড়াই
এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয় ২০২০ সালের ১ জুন। তৎকালীন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবা অভিযোগ করেন যে, জনৈক যুবক তার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩ (অপহরণ), ৩৬৮ (অবৈধভাবে আটকে রাখা), ৩৭৬ (ধর্ষণ) এবং কঠোর পকসো আইনের অধীনে মামলা রুজু করে। ২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্টে এই মামলার বিচার শুরু হয়।
অভিযুক্ত যুবক শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, তাদের বিয়ে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন। নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে স্বস্তি না পেয়ে অবশেষে তারা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।
মানবিক বিচার ও আদালতের রায়
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় ওই দম্পতি জানান যে, গত ছয় বছর ধরে তারা বিবাহিত জীবনে আবদ্ধ এবং তাদের একটি সন্তানও রয়েছে। এমনকি ২০২০ সালে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই তরুণী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই ওই যুবককে বিয়ে করেছেন।
আদালত মনে করে, এই পর্যায়ে মামলাটি চালিয়ে গেলে তা শুধু পরিবারের ওপর মানসিক চাপই বাড়াবে না, বরং একটি সাজানো সংসারকেও বিপন্ন করবে। ফলে মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত যুবকের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত অভিযোগ থেকে তাকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেয়। উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ট্রায়াল কোর্টের সমস্ত কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একঝলকে
সমাজ ও পরিবারের মঙ্গলের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
আদালত পকসো আইনের চেয়ে দম্পতির সুখী দাম্পত্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টের মামলা বাতিলের আবেদন প্রত্যাখ্যানের রায় সুপ্রিম কোর্টে নাকচ।
২০২০ সালের এই মামলায় অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ ছিল।
বর্তমানে ওই দম্পতি বিবাহিত এবং তাদের একটি সন্তান রয়েছে।