আকাশছোঁয়া এলপিজি সংকট কেড়ে নিচ্ছে গিগ কর্মীদের রুজি রুটি

আরব দুনিয়ায় যুদ্ধের কালো মেঘের ছায়া এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি সরবরাহে বড়সড় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশজুড়ে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের হাহাকার শুরু হয়েছে। এই সংকটের জেরে কার্যত ধুঁকছে হোটেল, রেস্তরাঁ এবং ক্লাউড কিচেনগুলি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে জোম্যাটো ও স্যুইগির মতো ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের ওপর।
গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কারস ইউনিয়নের (GIPSWU) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রান্নার গ্যাসের অভাবে বহু রেস্তরাঁ ও ধাবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারের অর্ডার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। আগে যেখানে একজন ডেলিভারি কর্মী দিনে গড়ে ৩০টি অর্ডার পেতেন, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ১০টিতে। এর ফলে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন দেশের প্রায় এক কোটি গিগ কর্মী।
দিল্লির এক ডেলিভারি কর্মীর আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দুই সন্তানের এই বাবা জানিয়েছেন, আয় কমে যাওয়ায় সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে আবার প্ল্যাটফর্ম কর্তৃপক্ষের আইডি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিতে কর্মীরা আরও আতঙ্কিত।
সংকট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমিধ্যেই ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন প্রয়োগ করেছে। তবে গিগ কর্মীদের সংগঠন সরাসরি কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের দাবি, উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য ডেলিভারি কর্মীদের ওপর যেন কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। সরকার যদিও সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিগ কর্মীদের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।