আকাশছোঁয়া দাম আর তীব্র গ্যাস সংকটে জেরবার দিঘা জগন্নাথ মন্দির থেকে ইসকন কোপ পড়ল ভক্তদের ভোগে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল বাংলার হেঁশেলে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের যে কালো মেঘ ঘনিয়েছে, তার প্রভাব এখন স্পষ্ট এ রাজ্যের মন্দিরে মন্দিরে। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং তীব্র জোগান ঘাটতির কারণে দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে কলকাতার ইসকন মন্দির সর্বত্রই ভোগের আয়োজনে ব্যাপক কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে উদ্বোধন হওয়া দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়। এই মন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মহাপ্রসাদ বা ভোগ। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাব ও চড়া দামের কারণে সেই ভোগের মেনু ও পরিমাণ দুই-ই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই চিত্র কলকাতার ইসকন মন্দিরেও। সেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষের জন্য তিন বেলা অন্নভোগের ব্যবস্থা থাকলেও এখন তা কমিয়ে দুই বেলা করা হয়েছে।
ইসকনের মন্দির সভাপতি রাধারমন দাস জানিয়েছেন যে পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক গ্যাস না মেলায় তাঁরা অত্যন্ত সংকটে রয়েছেন। আগে বিশাল আয়োজনে প্রসাদ বিতরণ করা হলেও এখন কেবল খিচুড়ি রান্না করে কোনওরকমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে। মাত্র ৭৫০ জন ভক্তের জন্য বর্তমানে খাবারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি ভগবানের ভোগের জন্য মাত্র দুই দিনের গ্যাস মজুত রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই কারণে উত্তর কলকাতার বাগবাজারে সারদা মায়ের বাড়িতেও বর্তমানে প্রসাদ বিতরণ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাসের দাম এক লাফে ৬০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মন্দির ও হোটেল ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস উঠছে। ডিলারদের কাছে লম্বা লাইন দিয়েও মিলছে না প্রয়োজনীয় সিলিন্ডার। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু জায়গায় পুরনো দিনের মতো উনুন জ্বালিয়ে রান্না শুরু হয়েছে। এই জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে ভক্তদের পরিষেবা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছে মন্দির কর্তৃপক্ষগুলো।