আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া! মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার জেরে পকেটে টান পড়তে চলেছে এয়ার ইন্ডিয়া যাত্রীদের

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় বড়সড় সিদ্ধান্তের কথা জানাল এয়ার ইন্ডিয়া গ্রুপ। মঙ্গলবার সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমস্ত রুটে ধাপে ধাপে বাড়ানো হচ্ছে ফুয়েল সারচার্জ বা জ্বালানি শুল্ক। মূলত পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেট ফুয়েল বা এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েলের (ATF) দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, একটি এয়ারলাইনের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানি খাতে। বর্তমানে দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে জ্বালানির ওপর উচ্চ আবগারি শুল্ক ও ভ্যাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই আর্থিক চাপ সামলাতে আগামী ১২ মার্চ থেকে তিন দফায় নতুন সারচার্জ কার্যকর করা হবে, যা এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
প্রথম দফায় ১২ মার্চ থেকে নতুন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর রুটে ৩৯৯ টাকা অতিরিক্ত সারচার্জ দিতে হবে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের রুটে ১০ ডলার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফ্লাইটে সারচার্জ ৪০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ ডলার করা হয়েছে। আফ্রিকার রুটে এই খরচ বেড়ে দাঁড়াবে ৯০ ডলারে। তবে সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রথম ধাপ থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হলেও আপাতত সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইটে বাড়তি সারচার্জ থাকছে না।
দ্বিতীয় দফায় ১৮ মার্চ থেকে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটে বড় পরিবর্তন আসবে। ইউরোপগামী ফ্লাইটের সারচার্জ বেড়ে হচ্ছে ১২৫ ডলার। এছাড়া উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ফ্লাইটে ১৫০ ডলারের পরিবর্তে যাত্রীদের গুনতে হবে ২০০ ডলার। তৃতীয় ধাপে হংকং, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোর রুটে সারচার্জ বাড়ানো হবে, যার বিস্তারিত শীঘ্রই জানানো হবে।
সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ১২ মার্চের আগে যারা টিকিট কেটেছেন তাদের বাড়তি টাকা দিতে হবে না, তবে যাত্রার তারিখ বা রুট পরিবর্তন করলে নতুন হার প্রযোজ্য হবে। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের মতে, এই অপ্রিয় সিদ্ধান্ত না নিলে অনেক ফ্লাইট চালানো আসাম্ভব হয়ে পড়ত এবং পরিষেবা বাতিল করতে হতো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় এই শুল্ক পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।