আকাশে আরও শক্তিশালী ভারত ৪০০ দেশীয় অস্ত্র মিসাইল কিনছে বায়ুসেনা

আকাশে আরও শক্তিশালী ভারত ৪০০ দেশীয় অস্ত্র মিসাইল কিনছে বায়ুসেনা

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শত্রুবিমানকে আকাশেই খতম করতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই ৪০০টি ‘অস্ত্র মার্ক-১’ (Astra Mk-1) বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স। ডিআরডিও-র প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) দ্বারা উদ্ভাবিত এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড (BDL) এটি উৎপাদন করছে। এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য বিদেশি নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। আগে ভারত রাশিয়ার আর-৭৭ এবং ফ্রান্সের মাইকা মিসাইলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ সেই শূন্যস্থান পূরণ করবে।

অস্ত্র মার্ক-১ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা অত্যন্ত সংহারক। এটি প্রায় ১১০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুকে নিখুঁতভাবে আঘাত করতে সক্ষম। এর গতিবেগ শব্দের চেয়ে প্রায় সাড়ে চার গুণ বেশি (Mach 4.5)। এতে রয়েছে উন্নতমানের কু-ব্যান্ড রাডার সিকার এবং ইলেকট্রনিক কাউন্টার-কাউন্টার মেজার ব্যবস্থা, যা শত্রুর জ্যামিং প্রযুক্তিকে ব্যর্থ করে দেয়। ধোঁয়াবিহীন ইঞ্জিনের কারণে এই মিসাইল ধেয়ে আসলেও শত্রুপক্ষ তা সহজে টের পায় না।

বর্তমানে বায়ুসেনার প্রধান শক্তি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। তবে নতুন করে ৪০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আসায় এগুলি মিগ-২৯কে, হ্যাল তেজস মার্ক-১ এবং তেজস মার্ক-১এ যুদ্ধবিমানেও সজ্জিত করা হবে। এর ফলে ভারতের আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। শত্রুদেশের বিমান ভারতের সীমান্তের কাছে আসার আগেই মাঝ আকাশে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিশাল পরিমাণ ক্রয়াদেশ ভারতের সমরাস্ত্র শিল্পের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। ভবিষ্যতে এর চেয়েও উন্নত সংস্করণ যেমন অস্ত্র মার্ক-২ (১৬০ কিমি রেঞ্জ) এবং অস্ত্র মার্ক-৩ (৩৫০ কিমি রেঞ্জ) তৈরির কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আধুনিক রণকৌশলে ভারতীয় বায়ুসেনাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে এই স্বদেশি প্রযুক্তির জয়যাত্রা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *