আগুনের সাথে খেলবেন না আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চরম হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

আগুনের সাথে খেলবেন না আমেরিকা ও ইজরায়েলকে চরম হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা এবং ক্রমাগত সংঘাতের আবহে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে কড়া ভাষায় সতর্কবার্তা দিল রাশিয়া। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভাসিলি নেবেনজিয়া পশ্চিমি শক্তিগুলোর বর্তমান ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে যে বিপজ্জনক খেলা চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। রাশিয়ার মতে, আমেরিকা ও ইজরায়েল কার্যত ‘আগুনের সাথে খেলা’ করছে, যা সমগ্র অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ভাষণে নেবেনজিয়া অভিযোগ করেন, পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান অভূতপূর্ব সহিংসতার জন্য সরাসরি ওয়াশিংটন এবং তেল আভিভ দায়ী। বিশেষ করে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ এবং ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর ওপর এই সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে, মস্কো তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছে।

অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সাম্প্রতিক কিছু হামলা। জানা গেছে, ইরানজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলি বাহিনী বড়মাপের অভিযান চালিয়েছে। তেহরানের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ সেতু পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে, যা পুনরায় নির্মাণ করা প্রায় আসাম্ভব। এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

হামলার পাল্টায় ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তেহরান জানিয়েছে, কোনো অবস্থাতেই তারা শত্রুপক্ষের সামনে নতি স্বীকার করবে না। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তারা হরমুজ প্রণালী দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জলপথটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়, ইরানের এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তেহরানের সাফ কথা, আমেরিকা ও ইজরায়েলি আগ্রাসনের জবাব তারা উপযুক্ত সময়েই দেবে।

রাশিয়া মনে করে, এই সামরিক সংঘাত কোনো সমাধান আনতে পারবে না। বরং এর ফলে সমগ্র পশ্চিম এশিয়া এক দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসযজ্ঞের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রুশ প্রতিনিধি নেবেনজিয়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন যাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে কূটনৈতিক পথে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হয়। তবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের অনড় মনোভাবের কারণে বর্তমানে দাতা গোষ্ঠীর শান্তি প্রস্তাবগুলো ধোপে টিকছে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সামগ্রিকভাবে, পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন এক নতুন মোড় নিয়েছে। একদিকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র রাশিয়ার কঠোর হুঙ্কার, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের লাগাতার আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্ব রাজনীতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের পালটা হুমকি আগামী দিনে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর নজর এখন রাষ্ট্রসংঘের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিবদমান পক্ষগুলোর গতিবিধির ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *