আগে মনোনয়ন, পরে দল! গুজরাতের ‘ভরত ভাই’-এর কাণ্ডে চক্ষু চড়কগাছ কমিশনের

আগে মনোনয়ন, পরে দল! গুজরাতের ‘ভরত ভাই’-এর কাণ্ডে চক্ষু চড়কগাছ কমিশনের

ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে দলবদলের ঘটনা নতুন নয়, তবে গুজরাতের স্থানীয় নির্বাচনে যা ঘটল তা এককথায় অবিশ্বাস্য। দাহোদ জেলা পঞ্চায়েতের পিপেরো আসনে একজন প্রার্থীই দেশের প্রধান তিনটি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বিজেপি, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি (আপ)—তিনটি বিবাদমান শিবিরের নামেই মনোনয়ন পেশ করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন ভরত সিং ভাখালা।

ভরত সিং ভাখালা ওরফে ‘ভরত ভাই’ এলাকায় বেশ পরিচিত মুখ। তবে তার চেয়েও বেশি পরিচিতি রয়েছে তার ঘন ঘন দলবদলের অভ্যাসের কারণে। ইতিপূর্বে তিনি কংগ্রেস থেকে আপ এবং পরবর্তীতে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে আপের টিকিটে লড়াই করে বিজেপিকে কড়া টক্কর দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার স্থানীয় নির্বাচনে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সরাসরি তিনটি দলের নামেই মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন।

আধিকারিকদের চোখ ছানাবড়া

গত শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে ভরত ভাই মোট তিনবার মনোনয়ন জমা দেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি কারোর নজরে না এলেও, সোমবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় নির্বাচনী আধিকারিকরা চমকে ওঠেন। তারা দেখেন, পিপেরো আসনে জমা পড়া ১১টি মনোনয়নের মধ্যে তিনটিই ভরত ভাইয়ের নামে, যেখানে তিনি নিজেকে আলাদা আলাদাভাবে বিজেপি, কংগ্রেস ও আপের প্রার্থী হিসেবে দাবি করেছেন।

কোন দলের হয়ে লড়বেন ভরত ভাই

আইনত ভরত সিং ভাখালা কোন দলের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী

  • নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে রাজনৈতিক দল তাকে তাদের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবে, তিনি সেই দলের প্রার্থী হিসেবেই গণ্য হবেন।
  • সেক্ষেত্রে তার বাকি দুটি মনোনয়ন পত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর গুজরাতের নির্বাচনী আধিকারিকদের পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় কীভাবে একজন প্রার্থী তিনটি বড় দলের নাম ব্যবহার করার সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে চলছে কাটাছেঁড়া। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দলবদলের রাজনীতির এক চূড়ান্ত ও অদ্ভুত নিদর্শন।

একঝলকে

  • প্রার্থী: ভরত সিং ভাখালা (ভরত ভাই)।
  • নির্বাচনী এলাকা: দাহোদ জেলা পঞ্চায়েতের পিপেরো আসন, গুজরাত।
  • রাজনৈতিক দল: বিজেপি, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি।
  • বর্তমান পরিস্থিতি: যে দল আগে তাকে প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে, তিনি সেই দলের হয়েই লড়বেন।
  • বিশেষত্ব: দলবদলের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *