আচরণ বিধিভঙ্গের দায়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের, সাসপেন্ড নৈহাটি থানার আইসি

আচরণ বিধিভঙ্গের দায়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের, সাসপেন্ড নৈহাটি থানার আইসি

মনোনয়ন পর্বে আদর্শ আচরণ বিধিভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের নৈহাটি থানার ইনচার্জ বা আইসি-কে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে পুলিশের সরকারি গাড়িতে করে এসডিও দফতরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় পুলিশের এই ধরনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কমিশন তৎক্ষণাৎ এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত ব্যারাকপুরের মহকুমা শাসকের দফতরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়। সূত্রের খবর, নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় ওইদিন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁকে সাধারণ পরিবহনের বদলে নৈহাটি থানার নিজস্ব সরকারি গাড়িতে করে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হয়। সরকারি পদের অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে।

এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসনের একাংশ নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে শাসকদলের হয়ে কাজ করছে। এই ঘটনার মাধ্যমে প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বিরোধীরা, যা বর্তমান নির্বাচনী আবহে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

নির্বাচন কমিশন আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে, ভোট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। কোনো পুলিশ আধিকারিক বা সরকারি কর্মচারী নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধাভোগী হিসেবে কাজ করলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই নির্দেশিকা মেনেই নৈহাটির আইসি-র বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তোলা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর এবং তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আপাতত ওই থানার আইসি পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি রাজ্যের অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *