আজই মনোনয়ন দিচ্ছেন ফিরহাদ কিন্তু কলকাতা বন্দরে এখনও প্রার্থীহীন বিজেপি

কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের দিনক্ষণ এগিয়ে এলেও এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে এখনও কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি ভারতীয় জনতা পার্টি। আগামী বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য থাকলেও, গেরুয়া শিবিরের এই দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে অস্বস্তি বাড়ছে। প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত না হওয়ায় নির্বাচনী লড়াইয়ে বিজেপি পিছিয়ে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম আজ সোমবারই আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ে তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দিতে চলেছেন। বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও হেভিওয়েট নেতা হিসেবে ফিরহাদ যখন তাঁর প্রচার ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন, তখন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। বিজেপি সূত্রের খবর, একাধিকবার সমীক্ষা চালিয়ে এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করেও শেষ মুহূর্তে বন্দর আসনের জট কাটানো সম্ভব হয়নি। এর ফলে দলীয় কর্মীদের মনোবলেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আলিপুর এলাকার এক প্রভাবশালী নেতা—যিনি সম্প্রতি অন্য দল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন—তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে একাধিক আইনি মামলা থাকায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দোলাচলে রয়েছে। এই ‘দলবদলু’ নেতাকে প্রার্থী করলে স্থানীয় স্তরে বিক্ষোভ বা অন্তর্দ্বন্দ্বের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর আগে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ পেতে দেখা গিয়েছিল, যা বন্দর কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের ময়দানে ফিরহাদ হাকিমের মতো ওজনদার প্রার্থীর বিরুদ্ধে একজন যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী খুঁজে পেতে বিজেপি নেতৃত্বকে এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার হাতে মাত্র কয়েক দিন সময় থাকলেও প্রার্থীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় নির্বাচনী কৌশলে বিজেপি বড় ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি কোনো চমকপ্রদ নাম সামনে আনে নাকি অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে হিমশিম খায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।