আজ থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কার্যকর হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, খুলছে হরমুজ প্রণালী

আজ থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে কার্যকর হচ্ছে যুদ্ধবিরতি, খুলছে হরমুজ প্রণালী

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আজ সোমবার থেকেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা হ্রাসে একটি বিশেষ রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে ইরান অবিলম্বে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী বা ‘কমিউনিকেশন চ্যানেল’ হিসেবে কাজ করেছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রাতারাতি আমেরিকা ও ইরানের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়। খসড়া অনুযায়ী, একটি দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে প্রথমে যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তীতে একটি ব্যাপক চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে। দুই দেশের প্রাথমিক সম্মতি ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির গত রাতে আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। ৪৫ দিনের এই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটি ‘ইসলামাবাদ অ্যাকর্ড’ নামে পরিচিতি পেতে পারে। এই সময়ের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই দেশ ১৫ থেকে ২০ দিন সময় পাবে। এই শান্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফেরার আশা করা হচ্ছে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের কাছ থেকে নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ইরানের জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিষেধাজ্ঞায় ছাড়ের বিনিময়ে দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও তেহরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেয়নি, তবে চীন ও আমেরিকার সমর্থিত এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।

বর্তমানে এই যুদ্ধবিরতি বা শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আমেরিকা বা ইরানের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তবে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, দ্রুত এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। পরিস্থিতির দিকে এখন কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *