আটকে থাকা পাসপোর্টের জট কাটবে ৭ ও ৯ এপ্রিল আয়োজিত বিশেষ মেলায়

আটকে থাকা পাসপোর্টের জট কাটবে ৭ ও ৯ এপ্রিল আয়োজিত বিশেষ মেলায়

কলকাতার ব্রেবোর্ন রোডে অবস্থিত রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিস (আরপিও) আগামী ৭ ও ৯ এপ্রিল এক বিশেষ পাসপোর্ট মেলার আয়োজন করতে চলেছে। মূলত নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে যেসব পাসপোর্ট আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে, দ্রুত সেগুলোর নিষ্পত্তি করতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ব্রেবোর্ন রোড সংলগ্ন রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে আয়োজিত এই মেলায় দুই দিনে মোট ১,৬০০ জন আবেদনকারীকে পরিষেবা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

বিভাগীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বিশেষ শিবিরে প্রতিদিন ৮০০ জন করে আবেদনকারীকে ডাকা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব বা আসাম্পূর্ণ তথ্য প্রদানের কারণে পাসপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়া থমকে যায়। আবেদনকারীদের হয়রানি কমাতে এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া কাজ সম্পন্ন করতে এই মেলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কয়েকশো নাগরিকের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে পারে।

রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসার আশিস মিদ্দা জানিয়েছেন যে, এই মেলায় অংশগ্রহণের জন্য যোগ্য ব্যক্তিদের নির্দিষ্টভাবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। যারা ইতিমধ্যে রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসের পক্ষ থেকে ডাকার অপেক্ষায় ছিলেন বা সমস্যার মুখে পড়েছেন, তাঁদের মধ্যে নির্বাচিতদের কাছেই এই সুযোগ পৌঁছাবে। এটি শুধুমাত্র নথিপত্র জনিত সমস্যা সমাধানের জন্য একটি ত্বরান্বিত প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করবে।

পাসপোর্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশনা জারি করে বলা হয়েছে যে, আবেদনকারীদের অবশ্যই দপ্তরের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র বা চিঠি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। ওই চিঠি ছাড়া কাউকেই মেলার প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আবেদনকারীরা যাতে এই সুযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন, সেই আবেদনও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাসপোর্ট অফিসার আশিস মিদ্দা আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নথিপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য এটিই শেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

পেশাদার এবং নিরপেক্ষ ভঙ্গিতে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। ব্রেবোর্ন রোডের মূল কার্যালয়ে আয়োজিত এই মেলাটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্দিষ্ট দিনে আবেদনকারীরা প্রয়োজনীয় আসল নথি এবং তার প্রতিলিপি নিয়ে হাজির হলে দ্রুততম সময়ে তাদের পাসপোর্ট মঞ্জুর করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নাগরিকদের সুবিধার্থে পাসপোর্ট দপ্তরের এই সক্রিয়তা আগামীতে আবেদনের জট কমাতে সহায়ক হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *