আধার কার্ড দেখালেই মিলবে এলপিজি সিলিন্ডার, রান্নার গ্যাসের বাজারে মুশকিল আসান ছোটু

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পঞ্চম সপ্তাহে পদার্পণ করায় বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক হওয়ার আশা আরও ক্ষীণ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, তার প্রভাব কিছুটা হলেও ভারতে অনুভূত হচ্ছিল। তবে কেন্দ্র সরকারের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে দেশের বাজারে রান্নার গ্যাসের যোগান স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন এলপিজি এজেন্সির সামনে গ্রাহকদের লম্বা লাইন দেখা দিলেও আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্যাসের মজুত রয়েছে। সরবরাহ বজায় রাখতে এবং বিশেষ করে খুচরো চাহিদা মেটাতে ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বা ‘ছোটু’ সিলিন্ডারের যোগান দ্রুত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারে ‘ছোটু’ সিলিন্ডারের চাহিদা আকাশচুম্বী। ডিলারদের কাছে এই সিলিন্ডারগুলি সরাসরি কাউন্টারেই পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৩ মার্চ থেকে দেশে প্রায় ৬.৬ লক্ষ ছোটু সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে। এই সিলিন্ডারগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো পাওয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কোনও বুকিংয়ের প্রয়োজন হয় না। এফটিএল ক্যাটাগরির এই সিলিন্ডারগুলো সরাসরি বাজারদরে যে কোনও অনুমোদিত ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সম্ভব।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো এই ছোট সিলিন্ডার কেনার ক্ষেত্রে ঠিকানার প্রমাণপত্র বা অ্যাড্রেস প্রুফ দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র একটি বৈধ পরিচয়পত্র, যেমন আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড দেখালেই ডিলাররা সিলিন্ডার দিয়ে দিচ্ছেন। যাতায়াতে সহজ এবং ঝামেলামুক্ত হওয়ায় সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত পরিযায়ী শ্রমিক বা ছোট পরিবারের প্রয়োজনীয়তা মেটাতেই সরকার এই সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দেশের সবকটি শোধনাগার বা রিফাইনারি বর্তমানে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে। পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত থাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতেও জ্বালানির অভাব হবে না। গুজব এড়িয়ে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ৫ কেজির সিলিন্ডারের এই বিশেষ যোগান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।