আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬: সংগ্রামের ইতিহাস ও ‘গিভ অ্যান্ড গেইন’ থিম

নারীদের অধিকার ও সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে আজ রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। ২০২৬ সালে এই বিশেষ দিনটির প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘গিভ অ্যান্ড গেইন’ (Give and Gain)। লিঙ্গ সমতা প্রতিষ্ঠায় সমাজের প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রাখার গুরুত্ব তুলে ধরাই এই বছরের মূল লক্ষ্য। ১৯১১ সালে প্রথম উদযাপনের পর ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে।
নারী দিবসের নেপথ্যে রয়েছে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ লড়াই। ১৮৫৭ সালে নিউ ইয়র্কের সুতো কারখানার নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে ১৫ হাজার নারী কর্মঘণ্টা হ্রাস ও ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন করেন। ১৯১০ সালে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে জার্মান নেত্রী ক্লারা জেটকিনের প্রস্তাব অনুযায়ী ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। চীন, নেপাল ও মাদাগাস্কারের মতো দেশগুলোতে শুধুমাত্র নারীরাই এই বিশেষ ছুটি উপভোগ করেন। মূলত নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবদানকে সম্মান জানানো এবং সমঅধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় আজও এই দিনটি বিশ্বজুড়ে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।