আবেদন জমা দেওয়ার আগেই বাজিমাত, বিজেপি দফতরে বসেই প্রার্থিপদ পেলেন প্রবীণ আইনজীবী

কলকাতা: রাজনীতিতে অনেক সময় যা ভাবা হয়, ঘটে তার উল্টো। ঠিক এমনটাই ঘটল কলকাতা হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট তথা বিজেপি নেতা নারায়ণচন্দ্র মণ্ডলের সঙ্গে। বিধাননগরের সেক্টর ফাইভের বিজেপি দফতরে যখন তিনি নিজের এবং এক সঙ্গীর প্রার্থিপদের আবেদন জমা দেওয়ার জন্য তদ্বির করছিলেন, তখনই দিল্লি থেকে এল সেই কাঙ্ক্ষিত ফোন। আবেদন জমা পড়ার আগেই ঘোষিত হয়ে গেল তাঁর নাম!
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সত্তরোর্ধ্ব নারায়ণবাবু গত ১৬ মার্চ এক সতীর্থ আইনজীবীকে নিয়ে বিজেপি দফতরে গিয়েছিলেন। লক্ষ্য ছিল একটাই— আমডাঙা বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য সঙ্গীর নাম প্রস্তাব করা এবং নিজের জন্য বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের আবেদনটি পেশ করা। কিন্তু দফতর থেকে জানানো হয়, আবেদনের সময়সীমা ইতিপূর্বেই পার হয়ে গিয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাধিক বৈঠকের পর প্রার্থিতালিকা প্রায় চূড়ান্ত।
ফোন কল ও অভাবনীয় মোড়
আবেদন জমা দিতে না পেরে যখন খানিকটা হতাশ হয়ে তদ্বির চালাচ্ছিলেন, তখনই বারবার তাঁর ফোন বাজতে শুরু করে। বিরক্ত হয়ে শেষমেশ নিজের ছেলের ফোন ধরতেই পান সেই বিস্ময়কর খবর। দিল্লি থেকে প্রকাশিত বিজেপির প্রথম দফার তালিকায় বসিরহাট উত্তর কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে জ্বলজ্বল করছে নারায়ণচন্দ্র মণ্ডলের নাম।
বিস্ময়ের রেশ
খবরটি শুনে নারায়ণবাবু নিজেই হকচকিয়ে যান। তিনি বলেন, “সত্যিই জানি না কীভাবে নাম ঘোষিত হল। পার্টি অফিসে বসে খবরটা পেয়ে অবাক হয়েছিলাম।” তাঁর চেয়েও বেশি অবাক হয়েছেন তাঁর সঙ্গী এবং উপস্থিত অন্যান্য কর্মীরা। আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রার্থী হওয়ার এমন ঘটনা রাজনীতিতে বেশ বিরল।
কেন এই মনোনয়ন?
দলীয় সূত্রের খবর, ২০২১ সালেও তিনি এই কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন। সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষায় তাঁর নাম উঠে আসায় অথবা উপযুক্ত বিকল্প মুখের অভাবেই হয়তো কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাঁর ওপর পুনরায় আস্থা রেখেছেন। এখন দেখার বিষয়, ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলের দিনও কি এমনই কোনো ‘ম্যাজিক’ উপহার দিতে পারেন এই প্রবীণ প্রার্থী।