আমাকে গ্রেপ্তার করতে ফের জন্ম নিতে হবে, রাহুল গান্ধীর তোপের মুখে পালটা হুঙ্কার হিমন্ত বিশ্বশর্মার

আসাম বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে পারদ চড়তে শুরু করেছে। সম্প্রতি শ্রীভূমিতে এক নির্বাচনী জনসভায় কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। রাহুল গান্ধীর ‘দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী’ কটাক্ষের জবাবে তিনি বলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হলে ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এমনকি রাহুল গান্ধীকেও পুনরায় জন্মগ্রহণ করতে হবে। বিরোধীদের বিঁধে তিনি আরও দাবি করেন, এই জন্মে তাঁর ক্ষতি করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘ সময় পরও তাঁর কোনো ক্ষতি কেউ করতে পারবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস শিবিরেও পাল্টা আক্রমণের ঝড় উঠেছে। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবছেন। হিমন্ত বিশ্বশর্মার বর্তমান অবস্থান থেকে তিহাড় জেল পর্যন্ত যাত্রাপথ স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেও তিনি মন্তব্য করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে দুর্নীতি ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী দলের এই বাকযুদ্ধ আগামী দিনে আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে দেশের ‘সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী সপরিবারে রাজ্যে একটি ল্যান্ড এটিএম চালাচ্ছেন এবং তাঁর এই দুর্নীতির নেপথ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মদত রয়েছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন রাহুল।
আগামী ৯ এপ্রিল আসামের ১২৬টি বিধানসভা আসনে এক দফায় ভোটগ্রহণ করা হবে এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষিত হবে। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, মুখ্যমন্ত্রী ও রাহুল গান্ধীর এই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও পাল্টা অভিযোগ আসামের নির্বাচনী প্রচারকে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের মন জয়ে কোন পক্ষ সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।