“আমাদের ব্যাপারে নাক গলাবেন না!” ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়াল চিন

“আমাদের ব্যাপারে নাক গলাবেন না!” ট্রাম্পকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়াল চিন

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এক নাটকীয় মোড় নিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের ঘোষণার পর সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে চিন। বেজিংয়ের এই অবস্থান ওয়াশিংটন এবং বেজিংয়ের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

ট্রাম্পের অবরোধ ও চিনের পালটা চাল

পাকিস্তানের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আমেরিকা ও ইরানের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে ইরানের সমস্ত বন্দরে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর পালটা প্রতিক্রিয়া দিয়ে চিনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডং জুন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, চিন মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। চিনের দাবি, তাদের জাহাজগুলো নিয়মিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করে এবং ইরানের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও জ্বালানি চুক্তি রয়েছে যা তারা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে।

কেন ইরানের জন্য ঝুঁকি নিচ্ছে চিন

চিনের এই সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটার পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক স্বার্থ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হলো চিনের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান উৎস। হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ার অর্থ হলো চিনের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে চিন তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।

চিনের ওপর ট্রাম্পের চাপের মূল কারণগুলো হলো:

  • শুল্কের হুঁশিয়ারি: চিন ইরানকে সামরিক অস্ত্র সাহায্য করছে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ট্রাম্প চিনা পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
  • জ্বালানি নিরাপত্তা: এর আগে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানিতে বাধা দিয়ে চিনকে চাপে ফেলেছিল আমেরিকা। এবার ইরানের ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে ট্রাম্প মূলত চিনকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে চাইছেন।
  • এক ঢিলে দুই পাখি: ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ট্রাম্প একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখছেন, অন্যদিকে চিনের উদীয়মান অর্থনীতিকে সরাসরি আঘাত করছেন।

হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব ও সম্ভাব্য প্রভাব

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ সরবরাহ করে। মার্কিন বাহিনী যদি ইরানের সব বন্দর অবরোধ করে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে। ভারতসহ এশিয়ার অনেক দেশেই এর ফলে এলপিজি ও তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান ইতিমধ্যেই পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে তারা গালফের কোনো বন্দর অবশিষ্ট রাখবে না, যা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একঝলকে

  • আমেরিকার পদক্ষেপ: সোমবার থেকে ইরানের সমস্ত বন্দরে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর অবরোধ।
  • চিনের অবস্থান: ‘নাক গলাবেন না’ বলে সরাসরি ওয়াশিংটনকে সতর্কবার্তা এবং ইরানকে সমর্থন।
  • ট্রাম্পের হুমকি: ইরানকে অস্ত্র সাহায্য করলে চিনের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক।
  • সংকটের কেন্দ্রবিন্দু: হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
  • অর্থনৈতিক প্রভাব: চিনের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *