আমার মৃত্যু হবে লড়তে লড়তেই! ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ডাক মমতার

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: আসন্ন নির্বাচনের আগে বাংলাজুড়ে ভোটার তালিকায় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ডোল ও হোলি উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রীতিমতো রণংদেহি মেজাজে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিলেন, ভয় দেখিয়ে বাংলাকে স্তব্ধ করা যাবে না, বরং শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তিনি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবেন।
ভোটার তালিকায় ভয়াবহ কারচুপির অভিযোগ
কলকাতার উৎসবের মেজাজে রাজনৈতিক বারুদ মিশিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বাংলায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে। কোনো প্রকার ভেরিফিকেশন ছাড়াই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমার কেন্দ্র থেকেই ৬০ হাজার মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এটা চূড়ান্ত অমানवीय এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি। তবে আমি ভয় পাই না, মানুষের আশীর্বাদে আমি এক ভোট পেলেও জিতে দেখাব।”
দিল্লির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে কমিশন
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, দিল্লির বিজেপি সদর দপ্তর থেকে ঠিক করে দেওয়া হচ্ছে কার নাম থাকবে আর কার নাম বাদ যাবে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “বিজেপির মাইক্রো-অবজারভাররা বেছে বেছে বিরোধী সমর্থকদের নাম তালিকা থেকে সরাচ্ছে। চাপের মুখে পড়ে বিএলও (BLO)-রা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, অনেকের ব্রেন স্ট্রোক পর্যন্ত হচ্ছে।” বিজেপি যে ‘রথযাত্রা’র পরিকল্পনা করছে, তাকে সরাসরি ‘বিনাশ যাত্রা’ বলে কটাক্ষ করেন তৃণমূল নেত্রী।
সম্প্রীতির বার্তা ও জৈন মন্দিরের ঘোষণা
রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই এদিন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়েন মমতা। দীর্ঘদিনের দাবি মেনে নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা গেটের পাশে জৈন মন্দির নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের ঘোষণা করেন তিনি। উৎসবের মরশুমে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে শান্তিতে হোলি ও ডোল পালনের আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী।
আমৃত্যু লড়াইয়ের শপথ
বক্তব্যের শেষে আবেগপ্রবণ হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমার জীবন শুরু হয়েছে লড়াই দিয়ে, আর আমার মৃত্যু হবে লড়াই করতে করতেই। ওরা সবাইকে ভয় দেখাতে পারে, কিন্তু আমাকে নয়।” এই অন্যায়ের প্রতিবাদে খুব শীঘ্রই তিনি ধরনায় বসবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে ভোটার তালিকা নিয়ে মমতার এই আক্রমণাত্মক অবস্থান বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।