আমেরিকাকে কি বড় ধাক্কা দিচ্ছে ভারত! হরমুজ প্রণালীতে আটকে ২২টি তেলবাহী জাহাজ

নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই সংকীর্ণ জলপথে ভারতের অন্তত ২২টি তেল ও গ্যাস বোঝাই জাহাজ আটকে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট কাটাতে ভারত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন।
পেট্রোডলার বনাম পেট্রোইউয়ান বিতর্ক
আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে যে, মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমাতে ইরান এখন থেকে তেলের বিনিময়ে চিনা মুদ্রা ‘ইউয়ান’-এ অর্থ প্রদানের প্রস্তাব দিচ্ছে। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, একটি ভারতীয় জাহাজ ইউয়ানে পেমেন্ট করে পার পাওয়ার অনুমতি পেয়েছে। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
১৯৭০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে তেলের লেনদেন মার্কিন ডলারে হয়ে আসছে, যাকে বলা হয় ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’। ইরান বা রাশিয়ার মতো দেশগুলি এখন চিনা ইউয়ান বা বিকল্প মুদ্রায় ব্যবসার পথে হাঁটছে, যা আমেরিকার আর্থিক একাধিপত্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ভারতের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
যদি হরমুজ প্রণালীতে এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলে:
- ভারতে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে সাধারণ মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়বে।
- ওপেকের (OPEC) পরিসংখ্যানেও তেলের বাজার থেকে আয় কমার ইঙ্গিত মিলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার লক্ষণ।
বর্তমানে ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কূটনৈতিক পথে এই জট কাটানোর চেষ্টা করছে যাতে কোনো সংঘাত ছাড়াই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।