আমেরিকায় চরম বিলাসিতায় সোলেমানির আত্মীয়রা আটক, ট্রাম্প প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে বাতিল ভিসা ও গ্রিন কার্ড
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চরম উত্তেজনার আবহে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হলেন প্রয়াত ইরানি সামরিক কর্তা কাসিম সোলেমানির ভাইঝি হামিদেহ সোলেইমানি আফশার ও তাঁর কন্যা। শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে চার জন ইরানি নাগরিকের ভিসা এবং গ্রিন কার্ড বাতিল করে দিয়েছে। অভিযোগ, ইরানের শাসন ব্যবস্থার ঘনিষ্ঠ হয়েও তাঁরা আমেরিকায় বিলাসবহুল জীবনযাপন করছিলেন এবং প্রকাশ্যে মার্কিন বিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন।
২০২০ সালে বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কর্তা কাসিম সোলেমানি ছিলেন আমেরিকার কট্টর বিরোধী। অথচ তাঁরই ভাইঝি হামিদেহ ২০১৫ সালে পর্যটক ভিসায় আমেরিকায় যান এবং পরবর্তীতে গ্রিন কার্ড পান। তাঁর কন্যাও স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দাবি, সেখানে রাজার হালে থাকার পাশাপাশি তাঁরা নিয়মিত আমেরিকা বিরোধী মিছিলে অংশ নিতেন।
সম্প্রতি একটি যুদ্ধবিরোধী সমাবেশে আমেরিকাকে ‘শয়তানের দেশ’ বলে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় এই মা-মেয়ের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এর পরেই তৎপর হয় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ডিপার্টমেন্ট। শুক্রবার তাঁদের আটক করার পাশাপাশি তাঁদের যাবতীয় আইনি নথি বাতিল করা হয়েছে। হামিদেহের স্বামীকেও দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে।
একাধিক সূত্রের খবর, তালিকায় শুধু সোলেমানির পরিবারই নেই। ইরানের প্রয়াত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরি লারিজানির কন্যা আরদেশির লারিজানি এবং তাঁর স্বামী সৈয়দ কালান্তার মোটামেদির ভিসাও বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। লারিজানির কন্যাও দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় ঘাঁটি গেড়েছিলেন বলে জানা গেছে। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ধৃতরা ইরানের সন্ত্রাসী শাসন ব্যবস্থার সমার্থক এবং তাঁদের দ্রুত বহিষ্কার করা হবে।
একদিকে যখন ইরান সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে, তখন অন্যদিকে ইরানের প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের আমেরিকায় বসবাসের এই বৈপরীত্য সামনে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে চাপে ফেলার একটি বড় কৌশল। ইতিপূর্বেও রাষ্ট্রপুঞ্জে নিযুক্ত বেশ কিছু ইরানি কূটনীতিকের ভিসা রদ করে শক্ত বার্তা দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
সামগ্রিকভাবে, লস অ্যাঞ্জেলেসের এই গ্রেপ্তারির ঘটনাটি ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করল। ধৃত ইরানি নাগরিকদের সুরক্ষার পরিবর্তে তাঁদের ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত করে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমেরিকা বিরোধী প্রচার চালিয়ে মার্কিন মাটিতেই সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার দিন শেষ— এই বার্তাই দিতে চাইছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন।