আমেরিকার ভল্ট থেকে ১২৯ টন সোনা সরাল ফ্রান্স, ট্রাম্প প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বিপুল মুনাফা

আমেরিকার ভল্ট থেকে ১২৯ টন সোনা সরাল ফ্রান্স, ট্রাম্প প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে বিপুল মুনাফা

আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে ওয়াশিংটনের দূরত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। ট্যারিফ যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আমেরিকার ওপর ভরসা হারাচ্ছে ইউরোপ। এই পরিস্থিতিতে নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত নিজেদের স্বর্ণভাণ্ডার সরিয়ে নিতে শুরু করেছে ফ্রান্স। জার্মানির পর ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

আমেরিকার ভল্টে রাখা সোনা সশরীরে ফ্রান্সে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ছিল। এই পরিস্থিতি এড়াতে ব্যাংক অফ ফ্রান্স এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে। ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে নিউ ইয়র্কে মজুত ১২৯ টন ‘নন-স্ট্যান্ডার্ড’ সোনার বার তারা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে দেয়। এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের ফলে পরিবহন সংক্রান্ত বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

সোনা বিক্রির সেই অর্থ দিয়ে ফ্রান্স ইউরোপের বাজার থেকে সমপরিমাণ উচ্চমানের বা ‘হাই স্ট্যান্ডার্ড’ সোনা কিনে সরাসরি নিজেদের ভাণ্ডারে নিয়ে এসেছে। এই প্রক্রিয়ায় ফ্রান্স যেমন তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে, তেমনই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামের হেরফেরকে কাজে লাগিয়ে ১২.৮ বিলিয়ন ইউরো মুনাফা অর্জন করেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১.৩৭ লক্ষ কোটি টাকা।

ফরাসি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। প্রথমত, দশকের পুরনো সোনার পরিবর্তে আধুনিক মানের ও আন্তর্জাতিক মানের সোনা সংগ্রহ করা। দ্বিতীয়ত, বিদেশের মাটিতে গচ্ছিত সম্পদ সম্পূর্ণভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে প্যারিসে ফিরিয়ে আনা। সফলভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় ফ্রান্সের মোট স্বর্ণভাণ্ডার এখন ২,৪৩৭ টনে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের রক্ষণশীল আর্থিক নীতি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে অনেক দেশই এখন আমেরিকার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে সম্পদ নিজেদের কব্জায় রাখার চেষ্টা করছে। ফ্রান্সের এই ‘এক তীরে দুই শিকার’ নীতি বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য একটি বড় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সুরক্ষার পাশাপাশি এই পদক্ষেপ ফ্রান্সের সার্বভৌমত্বকেও আরও মজবুত করল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *