আমেরিকার ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ফেরাল ইরান, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ মেঘের মাঝে আমেরিকার দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান। বুধবার একটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ওয়াশিংটন এই কূটনৈতিক প্রস্তাব পাঠালেও তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিজস্ব শর্ত ছাড়া তারা যুদ্ধ থামাতে নারাজ। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের বরাত দিয়ে আল জাজিরা এই খবর নিশ্চিত করেছে। কূটনৈতিক আলোচনার এই ব্যর্থতা রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার মাঝেই সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি মার্কিন ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। দুই আসনবিশিষ্ট এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমানটি আকাশ ও ভূমি— উভয় প্রান্তেই হামলা চালাতে সক্ষম। দুর্ঘটনার পর মার্কিন সেনাবাহিনী বিমানটির একজন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও, নিখোঁজ অন্য সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি মানচিত্র প্রকাশ করে দেখিয়েছে, তেহরান থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে খুজেস্তান প্রদেশের কারুন নদীর সংলগ্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী বা হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ বা পাইলটদের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এই প্রথম চলতি সংঘর্ষে ইরানের আকাশে কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল।
একদিকে যখন মার্কিন বিমান নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে, অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হিজবুল্লাহর পরিকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে। দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলার পরেই এই অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ হওয়ায় যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপে জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন মোকাবিলায় ইরান তার পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহারে প্রস্তুত। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনার প্রক্রিয়া চলাকালীনই আমেরিকা হামলা চালিয়েছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচিও কড়া ভাষায় ট্রাম্প প্রশাসনকে বিঁধেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওয়াশিংটন কি ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়? বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের কঠোর অবস্থান সংঘাত নিরসনের পথকে আরও জটিল করে তুলল।