আমেরিকা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নেপালে তীব্র জ্বালানি সংকট, সরকারি দপ্তরে কাজের সময়বদল ও সপ্তাহে দুদিন ছুটি

আমেরিকা ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নেপালে তীব্র জ্বালানি সংকট, সরকারি দপ্তরে কাজের সময়বদল ও সপ্তাহে দুদিন ছুটি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফিলিপিন্সের পর এবার প্রতিবেশী দেশ নেপালও এই সংকটের মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। জ্বালানি সাশ্রয় করতে নেপাল সরকার তাদের সরকারি দপ্তর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মদিবস পুনর্নির্ধারণ করেছে। এখন থেকে সপ্তাহে ছয় দিনের পরিবর্তে সরকারি অফিস ও স্কুল-কলেজ পাঁচ দিন খোলা থাকবে। তেলের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি সামাল দিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নেপাল সরকারের মুখপাত্র ও শিক্ষামন্ত্রী সস্মিত পোখরেল জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতেই সপ্তাহে দুই দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি দপ্তরগুলো এখন সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। দেশের সীমিত জ্বালানি সম্পদ যাতে দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করা যায়, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের এই পদক্ষেপ। নেপাল অয়েল কর্পোরেশন ইতিমধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি করেছে, যা সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নেপালে গত মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৪৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতে এবং অভ্যন্তরীণ মজুত ধরে রাখতেই সরকার কর্মদিবস কমানোর মতো অপ্রথাগত পথ বেছে নিয়েছে। নেপালের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছে।

জ্বালানি সংকটের এই ঢেউ কেবল নেপালে সীমাবদ্ধ নেই। এর আগে শ্রীলঙ্কা সরকারও শক্তি সঞ্চয়ের লক্ষ্যে প্রতি বুধবার সরকারি অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া জ্বালানির কালোবাজারি রুখতে কিউআর-কোড ভিত্তিক রেশনিং ব্যবস্থাও চালু করেছে দেশটি। শ্রীলঙ্কার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নেপালও এখন কৃচ্ছ্রসাধন এবং সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে ফিলিপিন্স বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ‘এনার্জি ইমার্জেন্সি’ বা শক্তি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জানিয়েছেন, দেশের জ্বালানি সরবরাহে গুরুতর ঝুঁকির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। নেপাল ও ফিলিপিন্সের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো এই যুদ্ধের ফলে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *