আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপ ইরানের শতাব্দী প্রাচীন মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার

আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলায় ধ্বংসস্তূপ ইরানের শতাব্দী প্রাচীন মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ১০০ বছরের পুরনো একটি মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ইরান সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রক সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি পোস্ট করে এই দাবি জানিয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত ওই ঐতিহাসিক ভবনটি ‘পাস্তুর ইনস্টিটিউট অফ ইরান’ নামে পরিচিত ছিল। প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে, একসময়ের ঐতিহ্যবাহী ওই স্থাপনাটি এখন আগুনের ধোঁয়া ও মलबার স্তূপে পরিণত হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপোর এই ঘটনাকে বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ‘আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আবেদন জানান। কেরমানপোরের মতে, আন্তর্জাতিক পাস্তুর নেটওয়ার্কের সদস্য এই প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা জেনেভা কনভেনশন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের (IHL) স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও আইসিআরসি-র কাছে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও পুনর্গঠনে সহায়তা চেয়েছেন।

১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ইনস্টিটিউটটি ইরানের চিকিৎসা গবেষণা এবং ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই যৌথ সামরিক অভিযানে ইরান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই সংঘর্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেইসহ বহু শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সামরিক কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

সংঘাতের ৩৪তম দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইরানি সেনাবাহিনীকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে এবং তারা যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি। ট্রাম্পের এই বার্তার পর থেকেই ইরান পালটা ইজরায়েলের ওপর মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। পাল্টা জবাবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হলেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পজেশকিয়ান একটি খোলা চিঠিতে লিখেছেন যে, আমেরিকা, ইউরোপ বা প্রতিবেশী দেশগুলোর সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের কোনো শত্রুতা নেই। তবে সামরিক হামলা ও শতাব্দীর প্রাচীন স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংসের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক নতুন ও ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *