আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের আবহে আকাশছোঁয়া তেলের দাম হু হু করে নামল শেয়ার বাজার

আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের আবহে আকাশছোঁয়া তেলের দাম হু হু করে নামল শেয়ার বাজার

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ মেঘের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে, যেখানে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কার জেরে সূচকের বড় পতন লক্ষ করা গেছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি তাঁদের শর্ত মেনে না নেয়, তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দেশটিকে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনতে প্রয়োজনে সে দেশের তেল ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। হোয়াইট হাউসের দাবি, খুব দ্রুত তারা সামরিক লক্ষ্য অর্জন করবে। তবে এই যুদ্ধের আবহে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মতে, যেসব দেশ ওই পথ দিয়ে তেল আমদানি করে, সেই প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্বও সেই দেশগুলোকেই নিতে হবে। এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, আমেরিকার হুমকির মুখে মাথা নত করতে নারাজ ইরান। পালটা হুঙ্কার দিয়ে তেহরান জানিয়েছে যে, তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে ওয়াশিংটনের কোনো সঠিক ধারণা নেই। শত্রু পক্ষকে চূড়ান্ত শিক্ষা দিতে তারা বিধ্বংসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, প্রতিপক্ষ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই অনমনীয় মনোভাবের কারণে অদূর ভবিষ্যতে যুদ্ধের অবসান ঘটার সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীণ হয়ে পড়েছে, যা বিশ্ব বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরানের পার্লামেন্ট বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা করছে। এই বিলটি পাস হলে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী শত্রু দেশের জাহাজগুলোকে বাধা দিতে পারবে এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুল্ক বা টোল আদায়ের ক্ষমতা পাবে। এই খবরের জেরে বিশ্বজুড়ে পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূলত এই অস্থির পরিস্থিতির কারণেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা সতর্কতা অবলম্বন করছেন, যার ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে।

তবে এই ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্যেও ভারতের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে ইরান। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, হরমুজ প্রণালী নিয়ে ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইরান ভারতকে তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে বর্ণনা করে জানিয়েছে, ভারতীয় জাহাজগুলো ওই জলসীমায় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে। বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না বলে তেহরান আশ্বস্ত করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থায়িত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে এই বিবৃতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *