আমেরিকা ধ্বংসের হুমকি ইরানের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামায় হাই অ্যালার্টে মার্কিন ঘাঁটি

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরম শিখরে পৌঁছেছে। ইরানের সামরিক কমান্ডার আলী জাহানশাহি আমেরিকাকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি আমেরিকা আক্রমণ করে তবে তাদের সেনাদের প্রস্তর যুগেরও আগের সময়ে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের মাটি আক্রমণকারীদের কবরে পরিণত হবে এবং তাদের বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
এই হুমকির পর ইরাকের বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালাতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে একটি বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে।
একই সময়ে ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, মাত্র ছয় ঘণ্টায় চারবার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। যদিও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, তবুও কিছু আঘাত দেশের মধ্যাঞ্চলে পড়েছে। এর পাশাপাশি লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীও ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব পড়ছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও। আবু ধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরানের ওপর হামলা আরও জোরদার করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকার অভিযানে ইরানের সামরিক শক্তি ইতিমধ্যেই অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের জাফা এলাকা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে হুথিরা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।