আমেরিকা ফার্স্ট কি এখন শুধুই ইতিহাস? ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের আগে মার্কিনদের খোলা চিঠি ইরান প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আবহে মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশ্যে এক চাঞ্চল্যকর খোলা চিঠি লিখলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার ঠিক আগেই এই চিঠিটি প্রকাশ্যে আসে। চিঠিতে পেজেশকিয়ান সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন সরকারের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি কি বর্তমানে কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ? এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার কোন স্বার্থ রক্ষিত হচ্ছে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্ট মার্কিন জনগণের কাছে জানতে চেয়েছেন, নিরপরাধ শিশুদের হত্যা কিংবা জীবনদায়ী ওষুধের কারখানা ধ্বংস করার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার ভাবমূর্তিকে ঠিক কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর মতে, ওয়াশিংটন বর্তমানে ইসরায়েলের ‘প্রক্সি’ বা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। তিনি আরও প্রশ্ন করেন, আমেরিকা কি সত্যিই নিজস্ব কোনো প্রয়োজনে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, নাকি অন্য কোনো শক্তির চাপে এই ধ্বংসলীলায় অংশ নিচ্ছে?
পেজেশকিয়ান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সাধারণ আমেরিকানরা ইরানের শত্রু নয়। ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপগুলোকে তিনি কোনো আগ্রাসন নয়, বরং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই হামলা কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা তৈরি করবে, যার প্রভাব বিশ্বের অর্থনীতিতেও পড়বে।
চিঠিতে অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানতে চান, দিনের শেষে এই যুদ্ধে প্রকৃতপক্ষে কার লাভ হচ্ছে? কারণ, যুদ্ধ আমেরিকা এবং ইরান—উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রমাণিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও মার্কিন অর্থনীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব নিয়ে যখন খোদ আমেরিকাতেই বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই ইরানের পক্ষ থেকে এই কূটনৈতিক চাল দেওয়া হলো।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করে দেয়, তবেই তিনি যুদ্ধবিরতির বিষয়টি বিবেচনা করবেন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই ইরানের প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্প তাঁর প্রাইম-টাইম ভাষণে ইরানের এই সরাসরি প্রশ্নের কোনো উত্তর দেন কি না।