আম আদমি পার্টির ক্লিনচিট ও বিজেপির ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস

দিল্লি আবগারি দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেল আম আদমি পার্টি। রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের সাম্প্রতিক রায়ে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়াসহ দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ধোপে টেকেনি। আদালতের এই রায়কে সত্য এবং সততার ঐতিহাসিক জয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন আপ-এর জাতীয় মিডিয়া ইনচার্জ অনুরাগ ধান্ডা। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এই জয় কেবল দলের নয়, বরং দিল্লির মানুষের জয় বলে দাবি করছে আপ শিবির।
আদালতের রায়ে বিপাকে বিজেপি
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এই কথিত দুর্নীতি মামলায় কোনো অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অকাট্য প্রমাণ মেলেনি। অনুরাগ ধান্ডা বলেন, বিজেপি যে মিথ্যে গল্প ফাঁদছিল, এই রায়ে তার পর্দাফাঁস হয়েছে। ইডি এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া এবং সঞ্জয় সিংয়ের মতো নেতাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জেলে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় বছর জেল খেটে এবং পরিবারসহ নানা কষ্ট সহ্য করার পর আজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।
১০০টিরও বেশি প্রেস কনফারেন্স ও মিথ্যে প্রচার
আপ নেতার অভিযোগ, বিজেপি এই ইস্যু নিয়ে গত এক বছরে ১০০টিরও বেশি সাংবাদিক বৈঠক এবং বিক্ষোভ মিছিল করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এখন যখন আদালত সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে, তখন কি বিজেপি দেশ তথা দিল্লির মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবে? প্রশ্ন তুলেছেন ধান্ডা। একইসঙ্গে যে আধিকারিকরা নির্দোষ নেতাদের জেলে রেখেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে আম আদমি পার্টি।
দিল্লির উন্নয়ন বনাম রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
বিজেপির ওপর আক্রমণ শানিয়ে অনুরাগ ধান্ডা বলেন, গত ১১ বছর ধরে অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মানুষকে সস্তা বিদ্যুৎ, বিনামূল্যে জল, উন্নত সরকারি স্কুল এবং মোহাল্লা ক্লিনিকের মতো পরিষেবা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু গত এক বছরে বিজেপির ষড়যন্ত্রের কারণে দিল্লির রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ হয়েছে, স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে এবং দূষণ সমস্যা বেড়েছে। আম আদমি পার্টিকে ভেঙে দেওয়ার এবং নিশ্চিহ্ন করার যে ব্লু-প্রিন্ট বিজেপি তৈরি করেছিল, কর্মীরা সততার আদর্শে অনড় থেকে তা রুখে দিয়েছে।
আগামী নির্বাচনে প্রভাব
এই জয়ের পর আপ নেতারা আত্মবিশ্বাসী যে, দিল্লির মানুষ আবারও সৎ রাজনীতির পাশেই দাঁড়াবে। অনুরাগ ধান্ডার দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল তা আজ পরিষ্কার। যদি আজই দিল্লিতে নির্বাচন হয়, তবে মানুষ আবারও আম আদমি পার্টির ওপরই ভরসা রাখবে। স্বচ্ছতা এবং জনসেবার রাজনীতি যে কোনো ষড়যন্ত্রের চেয়ে শক্তিশালী, এই রায় তা আবারও প্রমাণ করল।