আয়কর জমা দেওয়ার আগে সাবধান! বদলে গেল ৭টি জরুরি ফর্ম, সামান্য ভুলেই বিপদের মুখে পড়তে পারেন করদাতারা

আয়কর জমা দেওয়ার আগে সাবধান! বদলে গেল ৭টি জরুরি ফর্ম, সামান্য ভুলেই বিপদের মুখে পড়তে পারেন করদাতারা

চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে করদাতাদের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। ১৯৬১ সালের পুরনো আয়কর আইনের বেশ কিছু ফর্মকে আধুনিকীকরণ ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের ওপর করের বোঝা কমাতে এবং প্রক্রিয়াটি আরও স্বচ্ছ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, সঠিক ফর্ম সম্পর্কে ধারণা না থাকলে রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় বড় ধরনের আইনি বা প্রযুক্তিগত সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেন এই পরিবর্তন এবং এর প্রভাব

মূলত কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করতে ১৯Labels১ সালের পুরনো আইনের সংস্কার করা হয়েছে। নতুন নিয়মে আয়করের হারে বড় কোনো বদল না এলেও, নথিপত্র জমার ধরনে আমূল পরিবর্তন এসেছে। একজন করদাতা যদি অসাবধানতাবশত পুরনো ফর্ম ব্যবহার করেন, তবে তার রিটার্ন বাতিল হতে পারে বা কর ছাড়ের সুবিধা থেকে তিনি বঞ্চিত হতে পারেন। বিশেষ করে বেতনভোগী কর্মীদের জন্য এই নিয়মগুলো জানা এখন বাধ্যতামূলক।

গুরুত্বপূর্ণ ফর্মের বর্তমান নাম ও পরিবর্তন

আয়কর দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী যে প্রধান ফর্মগুলোতে পরিবর্তন এসেছে তা নিচে দেওয়া হলো:

  • ফর্ম ১৬ এখন ফর্ম ১৩০: প্রতিটি বেতনভোগী করদাতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো ফর্ম ১৬, যা এখন থেকে ‘ফর্ম ১৩০’ হিসেবে পরিচিত হবে।
  • ফর্ম ২৬এএস এখন ফর্ম ১৬৮: ব্যাঙ্ক আমানত, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মুনাফা থেকে কাটা ট্যাক্স বা টিডিএসের বার্ষিক রেকর্ডের জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ২৬এএস বদলে ‘ফর্ম ১৬৮’ হয়েছে।
  • ফর্ম ১০ই এখন ফর্ম ৩৯: বকেয়া বেতন, গ্র্যাচুইটি বা পেনশনের ওপর কর ছাড় পেতে আগে ফর্ম ১০ই জমা দিতে হতো, যার বর্তমান নাম ‘ফর্ম ৩৯’।
  • ফর্ম ১৫জি এবং ১৫এইচ এখন ফর্ম ১২১: বার্ষিক আয় করযোগ্য সীমার নিচে থাকলে টিডিএস এড়াতে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে যে ফর্ম জমা দিতে হয়, তা এখন থেকে ‘ফর্ম ১২১’ নামে জমা দিতে হবে।
  • ফর্ম ১৬এ এখন ফর্ম ১৩১: অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফর্ম ১৬এ পরিবর্তিত হয়ে ‘ফর্ম ১৩১’ হয়েছে।

কর সাশ্রয়ের ধারাতেও বদল

সাধারণ মানুষের জন্য কর সাশ্রয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ছিল আয়কর আইনের ৮০ ধারা। জীবন বিমা, ভবিষ্যনিধি (PF), গৃহঋণের কিস্তি বা সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনার মতো বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধারায় ছাড় পাওয়া যেত। নতুন সংস্কারের ফলে এই ৮০ ধারাটি এখন ‘১২৩ ধারায়’ রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগের ওপর ছাড় দাবি করার সময় করদাতাদের নতুন এই ধারাটি উল্লেখ করতে হবে।

আয়কর বিশেষজ্ঞদের মতে, রিটার্ন জমার শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে এবং ভুল ফর্ম চয়ন জনিত সমস্যা রুখতে করদাতাদের এখনই এই নতুন ফর্মগুলোর সঙ্গে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। সঠিক ফর্ম ব্যবহার না করলে রিফান্ড পেতেও দেরি হতে পারে।

একঝলকে

  • আয়কর আইনের ১৯৬১ সালের পুরনো ফর্মগুলো নতুন নম্বর দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
  • বেতনভোগীদের জন্য অপরিহার্য ফর্ম ১৬ এখন থেকে ফর্ম ১৩০।
  • টিডিএস রেকর্ডের ফর্ম ২৬এএস পরিবর্তিত হয়ে হয়েছে ফর্ম ১৬৮।
  • পেনশন বা গ্র্যাচুইটির কর ছাড়ের জন্য ১০ই ফর্মের বদলে লাগবে ফর্ম ৩৯।
  • টিডিএস এড়ানোর ১৫জি/এইচ ফর্ম এখন থেকে ফর্ম ১২১।
  • জনপ্রিয় কর সাশ্রয়ী ৮০ ধারাটি এখন পরিবর্তিত হয়ে ১২৩ ধারা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *