আয়কর বাঁচানোর মোক্ষম দাওয়াই, ৩ কোটি টাকা মুনাফাতেও লাগবে না এক পয়সা ট্যাক্স

আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় যত এগিয়ে আসে, সম্পত্তি বা সোনা বিক্রি করে মুনাফা অর্জনকারীদের দুশ্চিন্তা ততই বাড়তে থাকে। তবে আয়কর আইনের ৫৪এফ (Section 54F) ধারা ব্যবহার করে প্রায় ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফার ওপর সম্পূর্ণ করছাড় পাওয়া সম্ভব। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ আইনটি মূলত দীর্ঘমেয়াদী পুঁজি বিনিয়োগকে আবাসন শিল্পে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। জমি, সোনা বা শেয়ার বিক্রির লভ্যাংশ যদি একটি নতুন বসতবাড়ি কেনা বা তৈরির কাজে সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবেই এই বিশাল অঙ্কের কর সাশ্রয় করা যায়।
৫৪এফ ধারার সুবিধা পেতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ও কড়া শর্ত পূরণ করা আবশ্যক। প্রথমত, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য নতুন বাড়িটি কেনার সময় আবেদনকারীর নামে একটির বেশি বসতবাড়ি থাকা চলবে না। অর্থাৎ, এটি মূলত নতুন স্থাবর সম্পত্তি গড়তে আগ্রহীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ। এছাড়া বিনিয়োগের সময়সীমাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদ বিক্রির এক বছর আগে অথবা বিক্রির দুই বছরের মধ্যে নতুন বাড়িটি কিনতে হবে। আর যদি কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে চান, তবে তিনি সর্বোচ্চ তিন বছর সময় পাবেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিনিয়োগ না করলে এই করছাড়ের সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে।
২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে এই আইনের অধীনে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে ছাড়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্তদের ক্ষেত্রে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত মুনাফাকে করমুক্ত করার সুযোগ এখনও অত্যন্ত কার্যকর। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কেনা বাড়িটি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করা যাবে না; করলে ছাড় দেওয়া কর পুনরায় সরকারকে ফেরত দিতে হবে। পৈতৃক সম্পত্তি বা গয়না বিক্রি করে যারা নতুন ঠিকানা খুঁজছেন, তাদের জন্য ৫৪এফ ধারা এক নিশ্চিত সঞ্জীবনী সুধা। তবে বড় অঙ্কের এই লেনদেনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।