আয়াতোল্লা খামেনেইর মৃত্যুতে উত্তাল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হতেই ভারতের মাস্টারস্ট্রোক ৪০ দেশ থেকে তেল আমদানির কৌশলে সুরক্ষিত জ্বালানি ভাণ্ডার

মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধের মেঘ এবং হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের আবহে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে বহু দেশ। তবে এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত গ্রহণ করেছে এক বিশেষ রণকৌশল।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় আমদানির উৎস ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে তেল আসত, এখন ভেনেজুয়েলাসহ প্রায় ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সংগ্রহ করছে ভারত। বর্তমানে ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৬০ শতাংশই আসছে বিকল্প রুট ব্যবহার করে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ছাড়াও আলজেরিয়া, কানাডা, নরওয়ে এবং আমেরিকার মতো দেশগুলো থেকে জোগান বাড়িয়ে তেলের বাজারে ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা চলছে।
রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। মাসিক প্রায় ১.০৪ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আসছে, যা ভারতের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ। যদিও নতুন রুট ব্যবহারের ফলে পরিবহন ও বিমার খরচ কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও জোগান স্বাভাবিক রাখাই এখন নয়াদিল্লির অগ্রাধিকার।
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে ৭৪ দিনের ব্যবহারযোগ্য তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের আপদকালীন মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বিশ্বনেতারা হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন ঘটানোর বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিলেও, ভারত তার বহুমুখী আমদানি নীতির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে এই বৈচিত্র্যময় কৌশলের ফলে বড় কোনো সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।