আরও প্রায় ৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়ছে চূড়ান্ত তালিকা থেকে, আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানি শেষ

গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের শুনানি পর্ব। ৫০ দিন ধরে চলার পর অবশেষে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল শুনানি প্রক্রিয়া। কমিশন সূত্রে খবর, এই দেড় মাসের বেশি সময়ে শুনানির জন্য হাজির হননি প্রায় ৫ লক্ষ ভোটার। শনিবার দুপুর ২টো পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা থেকে এমনই তথ্য এসেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।
নোটিস পাওয়ার পরও শুনানিতে গরহাজির থাকা ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় (১ লক্ষ ৩৮ হাজার)। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ৪৬ হাজার ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। কলকাতাতেও বহু ভোটার শুনানিতে হাজির হননি। কমিশন সূত্রে খবর, দক্ষিণ কলকাতায় ২২ হাজার এবং উত্তর কলকাতায় ২০০০ মানুষ শুনানিতে আসেননি। উত্তরবঙ্গের কালিম্পঙে ৪৪০ জন ভোটার শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কমিশনের কাছে যা তথ্য এসেছে, তাতে এখনও পর্যন্ত গরহাজিরার কারণে প্রায় ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে। অযোগ্য হিসেবে বাদ যাচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ভোটারের নাম। এখনও পর্যন্ত মোট ৬ লক্ষ ৬১ হাজার ভোটারের নাম বাদ যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার ভোটারকে নোটিস দেওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের নামও বাদ যাবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও যাঁদের চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে না, তাঁদের আবেদন করার সুযোগ থাকছে। শুনানিতে অংশ নেওয়া ভোটারদের তথ্য যাচাই পর্ব চলবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর রাজ্যের পাঠানো আধিকারিকদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার এবং কমিশনের টানাপোড়েন অব্যাহত। রাজ্যের পাঠানো অফিসারদের তালিকায় গ্রুপ বি আধিকারিকদের বদলে গ্রুপ সি আধিকারিকদের নাম দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিশনের। সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে রাজ্যের পাঠানো তালিকায় থাকা ৩০ শতাংশ গ্রুপ-সি কর্মীকে বর্ধিত মাইনের নিরিখে গ্রুপ-বি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের প্রশ্ন, বর্ধিত বেতনের নিরিখে কি র্যাঙ্ক পরিবর্তন করা যায়? যদিও রাজ্যের সিইও জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো রাজ্য সরকার যেসব নাম পাঠিয়েছে, তার মধ্যে ৬ হাজারের বেশি আধিকারিককে মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে তাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হলে শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো তাঁদের মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তবে কমিশন এবং রাজ্যের সংঘাত যে চলছেই, তা স্পষ্ট কমিশনের আরও একটি নির্দেশে। কর্তব্যে গাফিলতির জন্য রাজ্যের আট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের যে নির্দেশ রাজ্য সরকারকে কমিশন দিয়েছিল, তা না মানায় মুখ্যসচিবকে দিল্লী তলব করা হয়। সূত্রের খবর, ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুখ্যসচিবকে কমিশনের যাবতীয় নির্দেশ কার্যকর করে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।