আরজি করের লিফটে ঠিক কী ঘটেছিল? যুবকের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হাড়হিম করা তথ্য ফাঁস

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের লিফট দুর্ঘটনায় মৃত যুবকের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যে উঠে এল চাঞ্চল্যকর সব বিষয়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ৪০ বছর বয়সী অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু হয়েছে ভয়াবহ ‘পলি ট্রমা’-র কারণে। লিফটের ভেতরে ঠিক কতটা নৃশংস পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন তিনি, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন পরিজনরা।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, লিফট বিভ্রাটের জেরে ওই যুবকের হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস ফেটে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, শরীরের ভেতরে থাকা প্লীহা ও অন্ত্রও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ হাড় ভেঙে যাওয়ায় শুরু হয়েছিল প্রচণ্ড অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ।
নিজের চার বছরের অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য আরজি করে এসেছিলেন অরূপবাবু। শুক্রবার ভোরে ওটির সামনে স্ত্রীকে নিয়ে সন্তানকে শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য লিফটে ওঠেন তিনি। মাঝপথে লিফটে যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে সেটি অস্বাভাবিকভাবে ওঠানামা করতে থাকে। একসময় লিফটটি বেসমেন্টে নেমে গেলে অরূপবাবুর স্ত্রী ও সন্তান কোনোক্রমে বেরিয়ে আসতে পারলেও তিনি ভেতরেই আটকে পড়েন।
পরে যখন তাঁকে লিফটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়, তখন তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। কিন্তু স্ত্রী-সন্তান সুরক্ষিতভাবে বেরোতে পারলেও অরূপবাবুর শরীরের ওপর দিয়ে এমন কী বিভীষিকা বয়ে গেল যে তাঁর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ফেটে গেল, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। ঘটনার সময় লিফটের দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং কেন এমন রক্ষণাবেক্ষণহীন অবস্থা, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ও নজরদারি বিভাগের ৫ জনকে তলব করেছে পুলিশ।