আরজি করের সেই অভিশপ্ত লিফটে ঠিক কী ঘটেছিল? ফরেনসিক তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ভবনে লিফট দুর্ঘটনায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দানা বাঁধছে রহস্য। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চরম গাফিলতি, ঠিক কোন কারণে অকালে ঝরল একটি প্রাণ, তা খতিয়ে দেখতে ময়দানে নেমেছে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও লালবাজারের হোমিসাইড শাখা।
শনিবার ফরেনসিক দলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, লিফটের দরজা এবং বেসমেন্টের তালাবন্ধ গ্রিলই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল অরূপবাবুর জন্য। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার পর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত তালা খোলার জন্য আকুতি জানিয়েছিলেন নিহতের স্ত্রী, অথচ চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি উপস্থিত নিরাপত্তা বাহিনীও সেই তালা ভাঙতে এগিয়ে আসেনি বলে দাবি পরিবারের।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, লিফটের প্রবল চাপে অরূপবাবুর হাত, পা এবং পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। এমনকি আঘাতের তীব্রতায় ফেটে গিয়েছিল হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জন লিফটম্যান এবং দুই নিরাপত্তা রক্ষীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন ওই সময় লিফটে কোনও চালক ছিলেন না এবং আগে থেকে যান্ত্রিক ত্রুটি থাকলে কেন সেটি চালু রাখা হয়েছিল, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামিকাল জীববিদ্যা বিভাগের বিশেষজ্ঞরা ফের নমুনা সংগ্রহ করবেন। ঘটনার একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের স্ত্রীর বয়ানই এখন তদন্তের মূল ভিত্তি।