আরজি করে ফের গাফিলতির অভিযোগ: শ্বাসকষ্টের রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে রণক্ষেত্র ট্রমা সেন্টার

কালিন্দীর অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ৭২ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরজি কর মেডিকেল কলেজে ফের চিকিৎসায় গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ উঠল। হাবড়ার বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী গাড়িচালক বিশ্বজিৎ (মন্টু) সামন্ত তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে রবিবার মধ্যরাতে ইমারজেন্সিতে ভর্তি হন। অভিযোগ, ভোরের দিকে অসহায় রোগীকে বেড প্যান না দিয়ে হাসপাতালের বাইরে ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেটে যাওয়ার নির্দেশ দেন কর্তব্যরত কর্মীরা। শৌচাগারে যাওয়ার পথেই অবস্থার অবনতি ঘটে এবং সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের পরিবারের দাবি, মুমূর্ষু অবস্থায় রোগীকে বাইরে পাঠানোর অমানবিক সিদ্ধান্তই এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, সার্টিফিকেট পেতে হলে ময়নাতদন্ত করাতে হবে, নতুবা বাইরে থেকে ব্যবস্থা করতে হবে। এই ঘটনায় ট্রমা সেন্টারের পরিকাঠামো এবং কর্মীদের সংবেদনশীলতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিজনেরা।
দীর্ঘক্ষণ বাকবিতণ্ডার পর শেষ পর্যন্ত পরিবার ময়নাতদন্তে রাজি হলেও হাসপাতালের অমানবিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে আরজি করের সুপার তথা উপাধ্যক্ষ ডা. সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়কে বারবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। পর পর দুটি মর্মান্তিক ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়েছে।