আরজি কর কাণ্ডে ধৃত টালা থানার সেই বিতর্কিত প্রাক্তন ওসিকে নতুন দায়িত্ব! প্রবল চাপের মুখে মাঝরাতেই সিদ্ধান্ত বদল কমিশনের

কলকাতা পুলিশের ৩১টি থানায় বড়সড় রদবদল ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো তিলোত্তমায়। রবিবার রাতে নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকায় পর্ণশ্রী থানার নতুন ওসি হিসেবে নাম উঠে আসে টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের। আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এই পুলিশ আধিকারিকের নাম তালিকার ৬ নম্বরে দেখে শোরগোল পড়ে যায় প্রশাসনিক মহলে।
যাঁর বিরুদ্ধে এখনও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মামলা চলছে, তাঁকে কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ থানার দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই নড়েচড়ে বসে কমিশন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মাঝরাতেই তড়িঘড়ি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে কমিশন জানায় যে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই নাম তালিকায় ঢুকে পড়েছিল। ফলে অভিজিৎ মণ্ডল আর দায়িত্বে আসছেন না এবং পর্ণশ্রী থানার বর্তমান আধিকারিকই সপদে বহাল থাকছেন।
কমিশনের এই ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্য়েই পুলিশ মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে কোনোপ্রকার ‘হোমওয়ার্ক’ না করেই ইচ্ছামতো আধিকারিকদের বদলি করা হচ্ছে। এমনকি নতুন দায়িত্ব পাওয়া অনেক ইন্সপেক্টরেরই থানায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই বলেও খবর।
এদিনের রদবদলে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর, কালীঘাট থেকে শুরু করে উত্তর ও মধ্য কলকাতার একাধিক থানার ওসি পরিবর্তন করা হয়েছে। ভবানীপুর থানার দায়িত্ব পেয়েছেন সৌমিত্র বসু এবং কালীঘাট থানায় আসছেন উৎপলকুমার ঘোষ। আমহার্স্ট স্ট্রিটে শুভদীপ চক্রবর্তী ও আলিপুর থানায় প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তীকে নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়াও ভাঙড়, পোলেরহাট, বড়বাজার ও জোড়াসাঁকোসহ মোট ৩১টি থানায় নতুন মুখ নিয়ে আসা হয়েছে। তবে মানিকতলা ও পার্ক স্ট্রিট থানায় একই আধিকারিকের নাম ঘোষণা হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের পেশাদারিত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল এই বিতর্কিত বদলি তালিকা।