আরজি কর কাণ্ড: লিফটম্যানদের চরম গাফিলতিতেই কি প্রাণ গেল যুবকের? চাঞ্চল্যকর তথ্য তদন্তে

আরজি কর হাসপাতালে লিফট দুর্ঘটনার সময় কর্তব্যরত তিন লিফটম্যান রেস্ট রুমে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার দাবি, দুর্ঘটনার মুহূর্তে ওই তিনজনের একজনও উপস্থিত থাকলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর তাঁদের আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে শিয়ালদহ আদালত।
এদিকে ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের লিফট নিয়ে রোগীদের পরিবার ও পরিজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শনিবার রাজ্য ফরেনসিকের ফিজিক্স শাখা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সোমবার বায়োলজি শাখার প্রতিনিধিরা সেখানে যাবেন। যান্ত্রিক ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জোর করে লিফট চালানো হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিউটি রোস্টার ও বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণের নথিপত্র তলব করেছেন গোয়েন্দারা।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১০-১২ বছরের পুরনো এই লিফটের মেকানিক্যাল রিপোর্ট মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থা বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি প্রমাণ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপাতত ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তদন্তের পরবর্তী রূপরেখা তৈরি করছে লালবাজার। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লিফটম্যান থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।