আরজি কর মৃত্যুকাণ্ড: লিফটের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে ঘনীভূত রহস্য

আরজি কর হাসপাতালে লিফটে আটকে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতেই লিফটটির স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়েছিল এবং তখন কোনো বড় ত্রুটি ধরা পড়েনি। দুর্ঘটনার দিন লিফটের নিয়ন্ত্রণকক্ষ বা ‘মেশিন রুম’-এ কেউ প্রবেশ করেছিলেন কি না এবং নিরাপত্তার নির্দিষ্ট নিয়মাবলি যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা এখন পুলিশের মূল তদন্তের বিষয়।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, লিফটে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না, তাই বাইরের ফুটেজ খতিয়ে দেখছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। দুর্ঘটনার সময় লিফটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল কি না এবং আপদকালীন পরিস্থিতিতে লিফটম্যানদের সঠিক প্রশিক্ষণ ছিল কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর রক্ষণাবেক্ষণকারী সংস্থাকে খবর দেওয়া হয়েছিল, যা উদ্ধারকাজে গাফিলতির দিকেই ইঙ্গিত করছে।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য এসে লিফটের যান্ত্রিক বিভ্রাটে অরূপবাবুর এই মৃত্যু ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় পুলিশ ইতিমধ্যে তিন লিফটম্যান ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে গ্রেফতার করেছে। লিফটের দরজায় আটকে গিয়ে দেওয়ালে ঘর্ষণের ফলে অরূপবাবুর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। বর্তমানে পুলিশ ও পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকরা যৌথভাবে ঘটনার নেপথ্যে থাকা যান্ত্রিক বা মানবিক ভুল খতিয়ে দেখছেন।