আরাবল্লী নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের চরম হুঁশিয়ারি, খনন বন্ধ না হলে কড়া পদক্ষেপের বার্তা

নয়াদিল্লি: “কোনো অজুহাত বা ওজর-আপত্তি শুনতে চাই না। আমরা যখন খনন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি, তখন তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে।” বৃহস্পতিবার আরাবল্লী পর্বতমালায় বেআইনি ও অনিয়ন্ত্রিত খননকার্য নিয়ে এমনই কঠোর অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই অনড় মনোভাবের জেরে আপাতত থমকে গেল আরাবল্লীর বুক চিরে চলা সমস্ত খনন প্রক্রিয়া।
বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, নতুন করে কোনো পাথর ভাঙা বা মাটি কাটার কাজ করা যাবে না।
কেন ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত?
সম্প্রতি আরাবল্লী পার্বত্য এলাকার পরিবেশগত সংজ্ঞা বদলে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা শুরু হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে পরিবেশকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরাবল্লীর সংজ্ঞা বদলে দিলে বনভূমি ধ্বংসের পথ প্রশস্ত হবে এবং বিপন্ন হবে ওই অঞ্চলের অমূল্য জীববৈচিত্র্য। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছিল।
বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের অপেক্ষা
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি পরিচালনা করেন। আদালত সাফ জানিয়েছে যে, কোনো আবেগের বশবর্তী হয়ে নয় বরং বিজ্ঞানের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বেঞ্চের মন্তব্য ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
“বিশেষজ্ঞরা আদৌ ওই এলাকায় খননের অনুমতি দিচ্ছেন কি না, তা আমাদের আগে জানতে দিন। পরিবেশবিদদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই নির্ধারিত হবে ঠিক কতটা খনন করা সম্ভব। একই সঙ্গে কারা এই পুরো প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালাবে, তাও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। আমরা ধাপে ধাপে প্রতিটি আইনি ও পরিবেশগত বাধা অতিক্রম করতে চাই।”
পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে বড় জয়
আরাবল্লী পর্বতমালা রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লির প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার প্রধান ঢাল হিসেবে কাজ করে। এই পাহাড় ধ্বংস হওয়ার অর্থ হলো মরুভূমির বিস্তার এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তরের চরম সংকট। পরিবেশবিদরা আদালতের এই কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া দাওয়াইয়ের ফলে আপাতত ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেল প্রাচীন এই পর্বতশ্রেণী। এখন দেখার বিষয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টে আরাবল্লীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ঠিক কী তথ্য উঠে আসে।
পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত খনন বন্ধ রাখার এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারগুলির ওপর বর্তেছে। সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলে আদালত যে চরম পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না, তা এদিনের শুনানিতেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।