আর্টেমিস ২ মিশনের সফল উৎক্ষেপণ, ৫০ বছর পর চাঁদের পথে পাড়ি দিল নাসা

দীর্ঘ ৫০ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চাঁদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করল নাসার ঐতিহাসিক ‘আর্টেমিস ২’ মিশন। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে শক্তিশালী রকেটে চেপে মহাকাশে পাড়ি দিলেন চার মহাকাশচারী। ১০ দিনের এই অভিযানে তাঁরা সরাসরি চাঁদের মাটিতে না নামলেও, উপগ্রহটিকে প্রদক্ষিণ করে মহাকাশের এমন এক দূরত্বে পৌঁছাবেন, যেখানে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ পদার্পণ করেনি।
এই মিশনে অংশ নিয়েছেন মার্কিন মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ক্রিস্টিন কোচ, ভিক্টর গ্লোভার এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। নাসার এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী আস্তানা বা বেস তৈরি করা। প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই মিশনটিকে মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাঁদকে কেবল একটি শুষ্ক ও ধূসর উপগ্রহ ভাবলে ভুল হবে। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের মাটিতে লুকিয়ে রয়েছে মূল্যবান খনিজ সম্পদ, আয়রন, টাইটানিয়াম এবং হিলিয়াম। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাঁদের মেরু অঞ্চলে জমে থাকা বরফ বা জল। এই জল থেকে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন পৃথক করে ভবিষ্যতে মহাকাশচারীদের শ্বাস নেওয়ার বাতাস এবং মহাকাশযানের জ্বালানি তৈরি করা সম্ভব হবে।
বর্তমানে মহাকাশে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চীন। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বেইজিং। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চাঁদের মালিকানা কোনো দেশের না হলেও, সেখানে আগে পৌঁছে সম্পদ আহরণ এবং কৌশলগত সুবিধা লাভের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ।
আর্টেমিস মিশনের চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে মঙ্গল গ্রহ জয় করা। ২০৩০-এর দশকে লাল গ্রহে মানুষ পাঠানোর আগে চাঁদকে পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করতে চায় নাসা। চাঁদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার প্রযুক্তি ও কৌশল রপ্ত করতে পারলে মঙ্গলে যাওয়ার পথ অনেক বেশি নিরাপদ ও সুগম হবে বলে মনে করছেন মহাকাশ গবেষকরা।
বৈজ্ঞানিক গুরুত্বের পাশাপাশি এই মিশন নতুন প্রজন্মের কাছে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরির এক বড় মাধ্যম। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে সরাসরি সম্প্রচারিত এই অভিযান বিশ্বজুড়ে নতুন প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের অনুপ্রাণিত করবে। পৃথিবীর অতীত ইতিহাস জানা এবং মানবতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনে আর্টেমিস ২ মিশন এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।