আলুচাষিদের বঞ্চনা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী, মমতার সরকারের সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে তোপ

আলুচাষিদের বঞ্চনা নিয়ে সরব প্রধানমন্ত্রী, মমতার সরকারের সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে তোপ

পশ্চিমবঙ্গের আলুচাষিদের দুরবস্থা এবং রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো নিয়ে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও রাজ্যে কৃষিজাত পণ্যভিত্তিক কোনো শিল্প গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে আলুচাষিদের সমস্যা সমাধানে রাজ্য সরকারের সদিচ্ছার অভাবকেই দায়ী করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বাংলার কৃষকরা হাড়ভাঙা পরিশ্রম করলেও ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মেখলিগঞ্জের উদাহরণ টেনে মোদী জানান, ২০২১ সালে প্রায় ৩০০ একর জমিতে শিল্পস্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও সেখানে একটি কারখানাও নির্মিত হয়নি। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই বড় কোনো বিনিয়োগ আসছে না। এর ফলে স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং কৃষকদের আয়ের সুযোগ থমকে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা দিনের পর দিন প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ চালিয়ে তিনি বলেন, বাংলার সাধারণ মানুষ আজ ‘সিন্ডিকেট রাজের’ অত্যাচারে অতিষ্ঠ। কৃষি থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কাজ—সর্বত্র এই চক্রের প্রভাব পড়ছে বলে তাঁর দাবি। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতির ফলেই সাধারণ চাষিরা বড় ব্যবসায়ীদের হাতে শোষিত হচ্ছেন এবং সরকার তাঁদের সুরক্ষায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আলুচাষিদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেন, পর্যাপ্ত হিমঘর বা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রের অভাবে চাষিরা জলের দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন। রাজ্যে চিপস তৈরির কারখানা বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের অভাব প্রকট। এই ধরনের শিল্প থাকলে কৃষকরা সরাসরি লাভের মুখ দেখতেন। কিন্তু বর্তমান সরকার আলুচাষিদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরিশেষে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কৃষকদের ক্ষমতায়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে শিল্পায়ন ও সরকারি সদিচ্ছা অত্যন্ত জরুরি। তৃণমূল সরকারের আমলে বাংলার কৃষকরা যে বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, তা পরিবর্তনের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষিপণ্যের সঠিক বাজারজাতকরণ এবং শিল্পায়নের মাধ্যমেই বাংলার কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। মোদীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তরজা তুঙ্গে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *