আলুর অভাবি বিক্রি রুখতে কোমর বেঁধে মাঠে নামল রাজ্য সরকার হুগলিতে ৯টি ক্যাম্পে শুরু হচ্ছে সরকারি কেনাকাটা

হুগলি জেলায় আলুর ফলন বেশি হওয়ায় বাজারদর পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দ্রুত পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। কৃষকদের অভাবি বিক্রি থেকে বাঁচাতে মঙ্গলবার থেকেই জেলায় পাঁচটি বিশেষ ক্যাম্প করে আলু কেনা শুরু করেছে রাজ্যের কৃষিজ বিপণন দপ্তর। বুধবার থেকে ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়িয়ে ৯টি করা হয়েছে। কুইন্টাল প্রতি ৯৫০ টাকা সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করে সরাসরি কৃষকদের থেকে এই আলু সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কৃষিজ বিপণন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার পাণ্ডুয়ায় তিনটি এবং ধনেখালি ও তারকেশ্বরে একটি করে ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে হিমঘর সংলগ্ন এলাকাগুলিতে এই ক্যাম্পগুলি করা হচ্ছে যাতে চাষিরা সহজেই তাঁদের উৎপাদিত ফসল পৌঁছে দিতে পারেন। রাজ্যের কৃষিজ বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সবসময়ই কৃষকদরদী। আলুর বাম্পার ফলনের কারণে কৃষকরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, তার জন্যই এই তড়িঘড়ি ব্যবস্থা। প্রয়োজনে ক্যাম্পের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতি। সংগঠনের সভাপতি লালু মুখোপাধ্যায় এই উদ্যোগের প্রশংসা করলেও আলু কেনার নিয়ম আরও সরল করার দাবি তুলেছেন। তবে সহায়ক মূল্যের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছে বিরোধী বাম সংগঠনগুলি। আরএসপি-র হুগলি জেলা সম্পাদক মৃন্ময় সেনগুপ্তের দাবি, কুইন্টাল প্রতি সহায়ক মূল্য ১২০০ টাকা হওয়া উচিত ছিল।
প্রথম দিন প্রচারের কিছুটা অভাব থাকলেও জেলা প্রশাসন আশাবাদী যে, ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়লে এবং প্রচার জোরদার হলে সাধারণ কৃষকরা এর পূর্ণ সুবিধা পাবেন। জেলাজুড়ে সরকারি হস্তক্ষেপে আলুর বাজারে স্থিতাবস্থা ফিরবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।