আসল ক্ষত ঢাকতে কি এবার প্রোপাগান্ডা যুদ্ধের পথে ইরান? এআই প্রযুক্তির কারসাজিতে তোলপাড় বিশ্ব

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক শক্তির মোকাবিলায় এবার রণকৌশল বদলে ফেলেছে তেহরান। যুদ্ধক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির খবর ধামাচাপা দিতে ইরান এখন বেছে নিয়েছে এক ভয়ংকর ‘ডিজিটাল যুদ্ধ’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং ভুয়া ভিডিও ব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর এক সুপরিকল্পিত জাল বিছানো হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, যুদ্ধের ময়দানে হওয়া বিশাল ক্ষতি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতে রাশিয়া ও চিনের সহায়তায় এক অত্যাধুনিক প্রোপাগান্ডা শুরু করেছে ইরান। ইন্টারনেটে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক ছবি থেকে শুরু করে নিউ ইয়র্ক হারবারে কাল্পনিক মিসাইল হামলার ভিডিও—সবই এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল। যদিও এর বেশিরভাগই কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ভুয়া কনটেন্ট।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের এই তথ্য-যুদ্ধ এতটাই শক্তিশালী যে এটি হরমূজ প্রণালীর জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার ক্ষমতার সমান প্রভাব ফেলছে। এক্স, ফেসবুক এবং টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে লাখ লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এই সাজানো বয়ান। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আমেরিকার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এখন ইরানের আসল লক্ষ্য। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে অস্ত্রের লড়াইয়ের চেয়েও এখন এই অদৃশ্য ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।