ইউরোপীয় এজেন্সির রিপোর্টে অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, আন্তর্জাতিক উড়ান নিয়ে সংশয়

ইউরোপীয় এজেন্সির রিপোর্টে অস্বস্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া, আন্তর্জাতিক উড়ান নিয়ে সংশয়

২০২৫-২৬ বর্ষে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলিতে বারবার যান্ত্রিক বিভ্রাট ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুতর ত্রুটি সামনে আসছে। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান অ্যাভিয়েশন সেফটি এজেন্সির এক সারপ্রাইজ ইন্সপেকশনে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানগুলিতে কারিগরি ও নথি সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সংস্থাটির ফল্ট রেশিও বর্তমানে ১.৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই অনুপাত ২ শতাংশ অতিক্রম করলে এয়ার ইন্ডিয়ার আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা এবং ২৬০ জনের মৃত্যুর তদন্তেও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা ‘এভিয়েশন সেফটি ফাউন্ডেশন’ দাবি করেছে যে, ওই দুর্ঘটনার মূল কারণ পাইলটের ভুল নয়, বরং বিমানের আগে থেকে থাকা যান্ত্রিক ত্রুটি। বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমানে দীর্ঘদিন ধরেই শর্ট সার্কিট, ধোঁয়া এবং বৈদ্যুতিক তারের সমস্যা ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনা সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাদের কাছে গোপন করা হয়েছিল, যা টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এই সংস্থার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি প্রকাশ করে দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এয়ার ইন্ডিয়ার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের ফল্ট রেশিও দ্রুত ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা। যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে বিশ্ববাজারে ভারতের এই প্রধান বিমান পরিষেবা সংস্থাটি বড় ধরনের আইনি ও বাণিজ্যিক সংকটের মুখে পড়বে। ডিজিসিএ-কে ইতিমধ্যেই ইউরোপীয় এজেন্সির পক্ষ থেকে সমস্ত রিপোর্ট প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং যাত্রী আস্থা ফেরাতে সংস্থাটিকে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিকাঠামোগত সংস্কার করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *