ইএমআই-এর হাতছানি, স্মার্ট বিনিয়োগ নাকি ঋণের ফাঁদ?

অসংযমিত জীবনযাপন ও সামাজিক মর্যাদার মোহে বর্তমান প্রজন্ম ‘সহজ কিস্তি’ বা ইএমআই-এর নেশায় মেতে উঠছে। স্মার্টফোন, বিদেশ ভ্রমণ বা বিলাসবহুল বিয়ের জন্য নেওয়া এই ঋণগুলো আসলে ‘ব্যাড লোন’, যা সম্পদের বদলে দায় বৃদ্ধি করে। কিস্তি মেটাতে গিয়ে একজন ব্যক্তি তার ভবিষ্যতের উপার্জিত অর্থ বর্তমানের ক্ষণস্থায়ী বিলাসিতায় ব্যয় করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋণের ফাঁদ এড়াতে আয়ের তুলনায় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। আবাসন ঋণের মতো বিনিয়োগযোগ্য ‘গুড লোন’ সুবিধাজনক হলেও, ক্রেডিট কার্ড বা ব্যক্তিগত ঋণের চড়া সুদ পকেটের সর্বনাশ ঘটায়। মাসিক কিস্তি বা ইএমআই কোনোভাবেই মোট বেতনের ৩০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। অন্যের দেখাদেখি খরচ করার প্রবণতা বা ‘ফোমো’ ত্যাগ করে সঞ্চয়ে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অন্তত ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ ‘ইমার্জেন্সি ফান্ড’ গড়ে তোলা জরুরি। বিজ্ঞাপন বা চটকদার অফারে প্রলুব্ধ না হয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী কেনাকাটার অভ্যাস গড়তে হবে। মনে রাখবেন, নগদ টাকায় জিনিস কেনার ক্ষমতা না থাকলে কিস্তিতে তা কেনা আসলে ঋণের জালে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা। সঠিক পরিকল্পনা ও সংযমই পারে আপনার আগামী দিনের রোজগারকে সুরক্ষিত রাখতে।